ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নদী ও সাগরে ৭৩৫ প্রজাতির মাছ: জেলেদের জালে ধরা পড়ে কত ধরনের?

নদীমাতৃক বাংলাদেশে মাছ ধরা কেবল একটি পেশা নয়, বরং এটি জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শিল্প একদিকে যেমন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তেমনই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবেও বিবেচিত হয়। জাতীয় মাছ ইলিশ ছাড়াও আমাদের নদ-নদী ও সমুদ্রে পাওয়া যায় নানা ধরনের মাছ, যার অনেক প্রজাতি সম্পর্কেই সাধারণ মানুষ অবগত নন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নদ-নদী ও সমুদ্র মিলিয়ে মোট ৭৩৫টির বেশি প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্বাদু পানির ২৬০টি এবং সামুদ্রিক ৪৭৫টি প্রজাতি রয়েছে। সমুদ্রগামী জেলেরা গভীর ও অগভীর সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ আহরণ করেন। বাণিজ্যিকভাবে নিয়মিত প্রায় ৪০ ধরনের মাছ ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ইলিশ, রুপচাঁদা, কালোচাঁদা, লইট্টা এবং কোরাল। রফতানির জন্য টুনা, ম্যাকারেল, সুরমা এবং লাক্ষা মাছও ধরা পড়ে। এছাড়া কালো পোপা, লাল পোপা, সাদা পোপা, ছুরি, ফাইস্যা, তাইল্লা, শাপলাপাতা এবং বাইমের মতো মাছও জেলেদের জালে ওঠে। দামি মাছের মধ্যে জাভা ভোল বা ভোল কোরাল অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, দেশের নদ-নদীর মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আইড়, বাগাড়, রিটা, বোয়াল, রুই, কাতলা, পাঙাশ, চিতল, চিংড়ি, কাঁকড়া, হাঙর, পাবদা, গুলশা, চেওয়া, বউরানি, ট্যাংরা, কাকিলা, বাটা, বেলে, তপসে, ফলি, বৈরালী, মেনি, শোল, গজার, পুঁটি, মলা, ঢেলা, কাঁচকি, চান্দা, চেলা, শিং, মাগুর এবং কই।

বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ ছাড়াও নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। পদ্মা নদী তার অসংখ্য উপনদী ও খালের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ধারণ করে। এখানকার পরিবেশ মাছের ডিম পাড়া ও বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ২০১৪ সালের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, পদ্মা প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল। এর মধ্যে কাকিলা (কাইক্কা), ফাসা, কাচকি, চাপিলা, খয়রা, রানি (বউ মাছ), পুইয়া (গুতুম), পইয়া (পুইয়া), মলা (মোয়া), পিয়লি (জয়া), মোরারি, কাতলা, মৃগেল, রাইখোর (রেবা), বাঁশপাতা, বাটা, ভা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিরবিদায়, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

নদী ও সাগরে ৭৩৫ প্রজাতির মাছ: জেলেদের জালে ধরা পড়ে কত ধরনের?

আপডেট সময় : ১১:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নদীমাতৃক বাংলাদেশে মাছ ধরা কেবল একটি পেশা নয়, বরং এটি জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শিল্প একদিকে যেমন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তেমনই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবেও বিবেচিত হয়। জাতীয় মাছ ইলিশ ছাড়াও আমাদের নদ-নদী ও সমুদ্রে পাওয়া যায় নানা ধরনের মাছ, যার অনেক প্রজাতি সম্পর্কেই সাধারণ মানুষ অবগত নন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নদ-নদী ও সমুদ্র মিলিয়ে মোট ৭৩৫টির বেশি প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্বাদু পানির ২৬০টি এবং সামুদ্রিক ৪৭৫টি প্রজাতি রয়েছে। সমুদ্রগামী জেলেরা গভীর ও অগভীর সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ আহরণ করেন। বাণিজ্যিকভাবে নিয়মিত প্রায় ৪০ ধরনের মাছ ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ইলিশ, রুপচাঁদা, কালোচাঁদা, লইট্টা এবং কোরাল। রফতানির জন্য টুনা, ম্যাকারেল, সুরমা এবং লাক্ষা মাছও ধরা পড়ে। এছাড়া কালো পোপা, লাল পোপা, সাদা পোপা, ছুরি, ফাইস্যা, তাইল্লা, শাপলাপাতা এবং বাইমের মতো মাছও জেলেদের জালে ওঠে। দামি মাছের মধ্যে জাভা ভোল বা ভোল কোরাল অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, দেশের নদ-নদীর মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আইড়, বাগাড়, রিটা, বোয়াল, রুই, কাতলা, পাঙাশ, চিতল, চিংড়ি, কাঁকড়া, হাঙর, পাবদা, গুলশা, চেওয়া, বউরানি, ট্যাংরা, কাকিলা, বাটা, বেলে, তপসে, ফলি, বৈরালী, মেনি, শোল, গজার, পুঁটি, মলা, ঢেলা, কাঁচকি, চান্দা, চেলা, শিং, মাগুর এবং কই।

বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ ছাড়াও নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। পদ্মা নদী তার অসংখ্য উপনদী ও খালের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ধারণ করে। এখানকার পরিবেশ মাছের ডিম পাড়া ও বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ২০১৪ সালের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, পদ্মা প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল। এর মধ্যে কাকিলা (কাইক্কা), ফাসা, কাচকি, চাপিলা, খয়রা, রানি (বউ মাছ), পুইয়া (গুতুম), পইয়া (পুইয়া), মলা (মোয়া), পিয়লি (জয়া), মোরারি, কাতলা, মৃগেল, রাইখোর (রেবা), বাঁশপাতা, বাটা, ভা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।