ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচন বিধিতে বড় সংস্কারের পথে ইসি: থাকছে না ইভিএম ও স্বতন্ত্রের কঠিন শর্ত

দীর্ঘ বিরতির পর দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন সংশোধনের ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিতে আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দলীয় কাঠামোর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার কঠিন শর্ত শিথিল এবং পোস্টারবিহীন প্রচারণার মতো আধুনিক ও বাস্তবসম্মত বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

সংস্কারের মূল দিকগুলো

ইসি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাম্প্রতিক সংস্কারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো হলো:

  • স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় নমনীয়তা: বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর বা সমর্থনপত্র জমা দিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য হয়রানির কারণ হয়। কমিশন এই বাধ্যবাধকতা বাতিলের চিন্তা করছে।
  • প্রচারণায় পরিবর্তন: পরিবেশ রক্ষায় কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করে ডিজিটাল বা বিকল্প প্রচারণার নিয়ম যুক্ত হতে পারে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার রোধে নতুন নীতিমালা আনা হচ্ছে।
  • ইভিএম ও অনলাইন মনোনয়ন: বর্তমান কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে স্থানীয় নির্বাচনে আর ইভিএম (EVM) ব্যবহার করা হবে না। এছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বর্তমান সুযোগটিও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও বর্তমান অবস্থা

সারাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪,৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশেরই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে নির্বাচনের সর্বশেষ তথ্য, ওয়ার্ড বিন্যাস ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ১৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে কমিশন। তবে সম্ভাব্য সংস্কার নিয়ে আলোচনা পুরোদমে চলছে।

সরকারের অবস্থান

নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান আগেই বাতিল হওয়ায় এবারের স্থানীয় নির্বাচন হবে পুরোপুরি নির্দলীয়। ফলে নতুন আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিরবিদায়, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

স্থানীয় নির্বাচন বিধিতে বড় সংস্কারের পথে ইসি: থাকছে না ইভিএম ও স্বতন্ত্রের কঠিন শর্ত

আপডেট সময় : ১০:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

দীর্ঘ বিরতির পর দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন সংশোধনের ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিতে আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দলীয় কাঠামোর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার কঠিন শর্ত শিথিল এবং পোস্টারবিহীন প্রচারণার মতো আধুনিক ও বাস্তবসম্মত বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

সংস্কারের মূল দিকগুলো

ইসি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাম্প্রতিক সংস্কারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো হলো:

  • স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় নমনীয়তা: বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর বা সমর্থনপত্র জমা দিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য হয়রানির কারণ হয়। কমিশন এই বাধ্যবাধকতা বাতিলের চিন্তা করছে।
  • প্রচারণায় পরিবর্তন: পরিবেশ রক্ষায় কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করে ডিজিটাল বা বিকল্প প্রচারণার নিয়ম যুক্ত হতে পারে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার রোধে নতুন নীতিমালা আনা হচ্ছে।
  • ইভিএম ও অনলাইন মনোনয়ন: বর্তমান কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে স্থানীয় নির্বাচনে আর ইভিএম (EVM) ব্যবহার করা হবে না। এছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বর্তমান সুযোগটিও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও বর্তমান অবস্থা

সারাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪,৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশেরই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে নির্বাচনের সর্বশেষ তথ্য, ওয়ার্ড বিন্যাস ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ১৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে কমিশন। তবে সম্ভাব্য সংস্কার নিয়ে আলোচনা পুরোদমে চলছে।

সরকারের অবস্থান

নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান আগেই বাতিল হওয়ায় এবারের স্থানীয় নির্বাচন হবে পুরোপুরি নির্দলীয়। ফলে নতুন আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।