ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে: বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আশ্বাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও বাংলাদেশ পর্যাপ্ত সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা পেতে থাকবে।

ডব্লিউটিও’র উপমহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-এর কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা অব্যাহতভাবে পাবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-এর কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার অধীনে প্রদত্ত বহুবিধ কার্যক্রম থেকে সুবিধা গ্রহণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ডব্লিউটিও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) প্রসঙ্গে ডব্লিউটিও’র উপমহাপরিচালক জানান, বাংলাদেশ ইআইএফ-এর অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। এই কাঠামোটি এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইআইএফ বর্তমানে তৃতীয় ধাপে রূপান্তরিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ আরও পাঁচ বছর এই ইআইএফ সুবিধা গ্রহণ করার সুযোগ পাবে। ইআইএফ-এর সহায়তায় বাংলাদেশ সফলভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং তৈরি পোশাক খাতকে মূল্য শৃঙ্খলে উন্নীত করতে বহুমুখী কৌশলও তৈরি করেছে।

আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে শিয়াংচেন ঝাং বলেন, বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-এর ‘এইড ফর ট্রেড ইনিশিয়েটিভ’-এর একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধাভোগী। এটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে বাণিজ্য সক্ষমতা জোরদার করতে সাহায্য করে। ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই উদ্যোগের শীর্ষ দশ সুবিধাভোগীর মধ্যে বাংলাদেশ ছিল এবং এই সময়ে দেশটি ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা পেয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ডব্লিউটিও সংক্রান্ত একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বজায় রেখেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটে (বিএফটিআই) একটি ডব্লিউটিও রেফারেন্স সেন্টার পরিচালনা করছে। এই সেন্টারটি নথি এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত তথ্যের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

তবে ঝাং সতর্ক করে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরে বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে ডব্লিউটিও-তে তার সম্পৃক্ততার কৌশল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এতদিন মূলত এলডিসি গ্রুপের অংশ হিসেবে ডব্লিউটিও-এর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু উত্তরণের পর দেশটিকে তার অংশগ্রহণ পদ্ধতি মানিয়ে নিতে হবে এবং বিভিন্ন স্তরের উন্নয়নশীল ডব্লিউটিও সদস্যদের সঙ্গে কৌশলগত জোট গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য। দেশটি ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তার বাণিজ্য নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নতুন সুযোগও নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও সহজীকরণে কাজ করা জেনেভা ভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ডব্লিউটিও ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক চুক্তি—যেমন রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের সম্ভাবনার মতো নতুন কৌশল অন্বেষণ করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সহিংসতায় প্রাণহানি: দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে: বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আশ্বাস

আপডেট সময় : ১০:২৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও বাংলাদেশ পর্যাপ্ত সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা পেতে থাকবে।

ডব্লিউটিও’র উপমহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-এর কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা অব্যাহতভাবে পাবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-এর কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার অধীনে প্রদত্ত বহুবিধ কার্যক্রম থেকে সুবিধা গ্রহণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ডব্লিউটিও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) প্রসঙ্গে ডব্লিউটিও’র উপমহাপরিচালক জানান, বাংলাদেশ ইআইএফ-এর অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। এই কাঠামোটি এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইআইএফ বর্তমানে তৃতীয় ধাপে রূপান্তরিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ আরও পাঁচ বছর এই ইআইএফ সুবিধা গ্রহণ করার সুযোগ পাবে। ইআইএফ-এর সহায়তায় বাংলাদেশ সফলভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং তৈরি পোশাক খাতকে মূল্য শৃঙ্খলে উন্নীত করতে বহুমুখী কৌশলও তৈরি করেছে।

আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে শিয়াংচেন ঝাং বলেন, বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-এর ‘এইড ফর ট্রেড ইনিশিয়েটিভ’-এর একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধাভোগী। এটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে বাণিজ্য সক্ষমতা জোরদার করতে সাহায্য করে। ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই উদ্যোগের শীর্ষ দশ সুবিধাভোগীর মধ্যে বাংলাদেশ ছিল এবং এই সময়ে দেশটি ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা পেয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ডব্লিউটিও সংক্রান্ত একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বজায় রেখেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটে (বিএফটিআই) একটি ডব্লিউটিও রেফারেন্স সেন্টার পরিচালনা করছে। এই সেন্টারটি নথি এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত তথ্যের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

তবে ঝাং সতর্ক করে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরে বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে ডব্লিউটিও-তে তার সম্পৃক্ততার কৌশল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এতদিন মূলত এলডিসি গ্রুপের অংশ হিসেবে ডব্লিউটিও-এর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু উত্তরণের পর দেশটিকে তার অংশগ্রহণ পদ্ধতি মানিয়ে নিতে হবে এবং বিভিন্ন স্তরের উন্নয়নশীল ডব্লিউটিও সদস্যদের সঙ্গে কৌশলগত জোট গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য। দেশটি ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তার বাণিজ্য নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নতুন সুযোগও নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও সহজীকরণে কাজ করা জেনেভা ভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ডব্লিউটিও ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক চুক্তি—যেমন রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের সম্ভাবনার মতো নতুন কৌশল অন্বেষণ করছে।