ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল হওয়া ইউনিটটি সফলভাবে মেরামত শেষে পুনরায় চালু হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে যে, গত সোমবার রাত পৌনে আটটা থেকে বন্ধ থাকা ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল একটি বিয়ারিংয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিটে উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রকৌশলীরা দ্রুত উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিটই সচল থাকায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও আদানির বকেয়া পাওনা এবং বিদ্যুতের দাম নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আদানি গ্রুপের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কাছে তাদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৬৮৮ মিলিয়ন ডলার এবং এর মধ্যে ৩৯৩ মিলিয়ন ডলার সম্পূর্ণ বিতর্কহীন। আদানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রণব আদানি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত পাওনা পরিশোধ করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে পুনরায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে পিডিবি আদানির কয়লার উচ্চমূল্য নির্ধারণ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলে আসছে। বিদ্যুতের এই দাম সংক্রান্ত জটিলতা বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ ও কয়লার দাম নির্ধারণের এই অমীমাংসিত ইস্যুটি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 





















