দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন ব্যারাকে ফেরার জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে তারা জননিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা আন্দোলনের জের ধরে সৃষ্ট গণঅসন্তোষ ও পুলিশের অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ নীতি অনুসরণ করে সেনাবাহিনী মাঠে নামে। টানা ২০ মাস ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে আসছে তারা।
বর্তমানে ৬৪টি জেলায় ৫০টি ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন আছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই রয়েছে ২৫টি ক্যাম্প, যার ১৪টি ঢাকা জেলা ও মহানগরে অবস্থিত। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিকভাবে ২০৬টি ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র উদ্ধার, নৈরাজ্য প্রতিহতকরণ, মহাসড়কে টহল, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপপ্রচার রোধের মতো বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তাদের তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার এবং ২২ হাজারেরও বেশি দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতেও সেনাবাহিনী অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























