তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, জনপ্রিয় একটি ডিজিটাল ব্যাংকের পতন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল ব্যাংক ‘উয়েনো’ আকস্মিক ধসে পড়ার পর থেকেই পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্যারাগুয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার স্বার্থেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির পতনের ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক—প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের হিসাব স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যাংকটি সরকারের প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। এই আর্থিক বিপর্যয়ের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদত্যাগ করেন এবং ব্যাংকের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কংগ্রেসের বিরোধী দলগুলো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় এবং রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নিজ রাজনৈতিক দলের রক্ষণশীল অংশের সমর্থনও হারান তিনি।
পেশাদার অর্থনীতিবিদ পেনা ২০২৩ সালে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অতীতে ব্যাংকটির মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপো ভাসকেজ’-এর সঙ্গে তাঁর শেয়ার ও ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা থাকায় শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। আইনপ্রণেতারা তাঁর বিরুদ্ধে পেনশন তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ আনলেও তিনি তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, পেনার পদত্যাগ গৃহীত হতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
























