মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:০৪ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সাড়ে সতেরো ঘণ্টা পর অবশেষে চট্টগ্রাম ইপিজেডের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ সাড়ে সতেরো ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা চট্টগ্রামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (সিইপিজেড)-এর অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামের কারখানাটিতে লাগা এই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের মোট ২৫টি ইউনিট নিরলস চেষ্টা চালিয়েছে। সিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এই আগুন লাগে এবং আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. জাকির জানান, আজ সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তা সম্পূর্ণরূপে নিভিয়ে ফেলা এখনও সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ করছে। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না; তদন্তের পর তা জানা যাবে। এই বিশাল আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের সঙ্গে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশও সহায়তা করেছে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, আগুন লাগা ৯ তলা ভবনটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখনও ভবনের কয়েকটি ফ্লোরে আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে। অথচ এর আগের দিনও এই ভবনে এক হাজারের বেশি শ্রমিক একযোগে কাজ করেছেন। অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানায় নিয়োজিত ছিলেন ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক। সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুন প্রথমে ওপরের তলায় লাগায় শ্রমিকরা দ্রুত নামার সুযোগ পান। ফলে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানাটির ৭ তলায় প্রথম আগুন লাগে এবং সেটি পর্যায়ক্রমে পুরো ৯ তলা ভবনের নিচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফায়ার ইউনিট এবং সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরাও যোগ দেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, এই প্রতিষ্ঠানটিতে তোয়ালেসহ হাসপাতালে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করা হতো। তিনি নিশ্চিত করেন, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের মোট ২৫টি ইউনিট কাজ করেছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ: পানিবণ্টন নিয়ে নতুন আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি

28 October 2026

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সাড়ে সতেরো ঘণ্টা পর অবশেষে চট্টগ্রাম ইপিজেডের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে

হালনাগাদ সময় : ১১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ সাড়ে সতেরো ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা চট্টগ্রামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (সিইপিজেড)-এর অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামের কারখানাটিতে লাগা এই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের মোট ২৫টি ইউনিট নিরলস চেষ্টা চালিয়েছে। সিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এই আগুন লাগে এবং আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. জাকির জানান, আজ সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তা সম্পূর্ণরূপে নিভিয়ে ফেলা এখনও সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ করছে। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না; তদন্তের পর তা জানা যাবে। এই বিশাল আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের সঙ্গে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশও সহায়তা করেছে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, আগুন লাগা ৯ তলা ভবনটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখনও ভবনের কয়েকটি ফ্লোরে আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে। অথচ এর আগের দিনও এই ভবনে এক হাজারের বেশি শ্রমিক একযোগে কাজ করেছেন। অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানায় নিয়োজিত ছিলেন ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক। সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুন প্রথমে ওপরের তলায় লাগায় শ্রমিকরা দ্রুত নামার সুযোগ পান। ফলে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানাটির ৭ তলায় প্রথম আগুন লাগে এবং সেটি পর্যায়ক্রমে পুরো ৯ তলা ভবনের নিচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফায়ার ইউনিট এবং সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরাও যোগ দেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, এই প্রতিষ্ঠানটিতে তোয়ালেসহ হাসপাতালে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করা হতো। তিনি নিশ্চিত করেন, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের মোট ২৫টি ইউনিট কাজ করেছে।

Share this news as a Photo Card