মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:০৬ অপরাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

যন্তর মন্তরে ‘জেলে ভরো’ আন্দোলন থেকে অতিশী-বৃন্দাসহ আটক ১১০০

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন দেশের দুই শহরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বাধা দিয়েছে প্রশাসন এবং অন্তত ১১০০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। একই দিনে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও একই দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দুই কর্মসূচির কেন্দ্রেই রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে ওঠা প্রশ্ন।

এদিন দিল্লিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড এবং সংসদ মার্গে ছিল কড়া নজরদারি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দিল্লি মেট্রোতেও। রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, প্যাটেল চক এবং মাণ্ডি হাউস-সহ অন্তত ১২টি মেট্রো স্টেশনে পরিষেবা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা হয়।

তবু বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট দলে জড়ো হন। স্লোগান দিতে দিতে তারা যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের আটক করে বাসে তুলে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। আটক হওয়াদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, AISA-র সভাপতি নেহা বোরা, আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এবং আরজেডি-র সাংসদ মনোজ ঝাঁ। সেই সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বিক্ষোভকারী জনপথ এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করেন।

JantarMantar

নেহা বোরাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাস আটকে বিক্ষোভকারীরা তাকে বের করে আনেন বলে দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী এবং আইনজীবীদের একটি অংশ। তাদের মধ্যে ছিলেন নেহা বোরা, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং মনোজ ঝাঁ। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে এসআইআর ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করা। রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও কমিশন অস্বীকার করেছে।

বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর। ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

তবে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের বক্তব্য, তিন সদস্যের কমিশনে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয় এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে কমিশনের মধ্যে ভাঙন হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়েও কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকাকে পরিষ্কার ও নির্ভুল করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও ২ অক্টোবর প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সংগঠনটির নেতা অভিজিৎ দিপকে শিবাজি পার্কে ‘জেলে ভরো আন্দোলন’ এর ডাক দিয়েছিলেন। মুম্বাই পুলিশ শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। মূলত পুলিশের তরফে শব্দদূষণ, যানজট এবং আশপাশের হাসপাতালগুলিতে যাতায়াতের বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবু সংগঠনটি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

সিজেপি’র দাবির মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর সংক্রান্ত ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করা, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করে তার ভিত্তিতে নির্বাচন করা এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনা। সংগঠনটি ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে।

ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি ও সংশোধন হবে, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা স্বচ্ছ, এবং ভোটাধিকার রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত— এই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিও সামনে এসেছে। এখন নজর থাকবে এই প্রতিবাদ কতদূর গড়ায় এবং নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের দিক থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে তার ওপর।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, একজনের মরদেহ উদ্ধার

26 October 2026

সাতক্ষীরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

যন্তর মন্তরে ‘জেলে ভরো’ আন্দোলন থেকে অতিশী-বৃন্দাসহ আটক ১১০০

হালনাগাদ সময় : ০৯:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন দেশের দুই শহরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বাধা দিয়েছে প্রশাসন এবং অন্তত ১১০০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। একই দিনে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও একই দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দুই কর্মসূচির কেন্দ্রেই রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে ওঠা প্রশ্ন।

এদিন দিল্লিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড এবং সংসদ মার্গে ছিল কড়া নজরদারি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দিল্লি মেট্রোতেও। রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, প্যাটেল চক এবং মাণ্ডি হাউস-সহ অন্তত ১২টি মেট্রো স্টেশনে পরিষেবা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা হয়।

তবু বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট দলে জড়ো হন। স্লোগান দিতে দিতে তারা যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের আটক করে বাসে তুলে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। আটক হওয়াদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, AISA-র সভাপতি নেহা বোরা, আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এবং আরজেডি-র সাংসদ মনোজ ঝাঁ। সেই সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বিক্ষোভকারী জনপথ এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করেন।

JantarMantar

নেহা বোরাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাস আটকে বিক্ষোভকারীরা তাকে বের করে আনেন বলে দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী এবং আইনজীবীদের একটি অংশ। তাদের মধ্যে ছিলেন নেহা বোরা, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং মনোজ ঝাঁ। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে এসআইআর ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করা। রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও কমিশন অস্বীকার করেছে।

বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর। ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

তবে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের বক্তব্য, তিন সদস্যের কমিশনে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয় এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে কমিশনের মধ্যে ভাঙন হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়েও কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকাকে পরিষ্কার ও নির্ভুল করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও ২ অক্টোবর প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সংগঠনটির নেতা অভিজিৎ দিপকে শিবাজি পার্কে ‘জেলে ভরো আন্দোলন’ এর ডাক দিয়েছিলেন। মুম্বাই পুলিশ শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। মূলত পুলিশের তরফে শব্দদূষণ, যানজট এবং আশপাশের হাসপাতালগুলিতে যাতায়াতের বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবু সংগঠনটি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

সিজেপি’র দাবির মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর সংক্রান্ত ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করা, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করে তার ভিত্তিতে নির্বাচন করা এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনা। সংগঠনটি ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে।

ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি ও সংশোধন হবে, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা স্বচ্ছ, এবং ভোটাধিকার রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত— এই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিও সামনে এসেছে। এখন নজর থাকবে এই প্রতিবাদ কতদূর গড়ায় এবং নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের দিক থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে তার ওপর।

Share this news as a Photo Card