অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি কাঠের ট্রলারসহ মোট ৭৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ১১ সদস্য রয়েছে, যাদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপের লাইট হাউজ থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি বাণিজ্যভিত্তিক ট্রলার বিকল হয়ে সমুদ্রস্রোতে ভেসে থাকা আরেকটি অচেনা ট্রলারকে দেখতে পায়। সহায়তার উদ্দেশ্যে ট্রলারটির কাছাকাছি গেলে সেটিতে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ ও চলাফেরা আশঙ্কাজনক ও সন্দেহজনক মনে হয়। তৎক্ষণাৎ এফভি ক্রিস্টাল-১-এর কর্মীরা বিষয়টি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অবহিত করেন।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল গভীর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ভাসমান ট্রলারটিকে দ্রুত উদ্ধার করে। এ সময় ট্রলারটিতে থাকা ৭৬ জন যাত্রীকে অক্ষত ও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। জানা গেছে, সমুদ্রের মাঝপথে ট্রলারটির প্রধান ইঞ্জিন এবং পানি নিষ্কাশনের পাম্প বিকল হয়ে ট্রলারে দ্রুত পানি প্রবেশ করছিল, যার ফলে এতে থাকা সব যাত্রীর জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল।
পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে ট্রলারে অবস্থানরত ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মূল মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। বাকি ৬৫ জন ব্যক্তি উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়া যাওয়ার লোভে পরে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন বলে নিশ্চিত করে নৌবাহিনী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানা যায়, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকে সমুদ্রযাত্রার আগে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণ করে টেকনাফের অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্দি করে রেখেছিল। এরপর সুবিধাজনক সুযোগ বুঝে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশ্যে অবৈধ সমুদ্রপথে ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়, নৌবাহিনীর তাৎক্ষণিক ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে গভীর সমুদ্রে এক সম্ভাব্য ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ও গণপ্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ট্রলারে পানি ঢোকার ফলে যাত্রীরা মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, তবে সময়মতো অভিযানের ফলে সব ৭৬ জন মানুষের অমূল্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

























