মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:০৪ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ আসামিকে কারাদণ্ড

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীতে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদ হওয়া এক ব্যক্তির কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিন আসামির মধ্যে দুজনকে (সাকিব ও সিফাত) ১৩ বছর করে এবং একজনকে (ইমরান) ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন এই রায় ঘোষণা করেন। যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্তরা ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তাই শিশু আদালত আইনের আওতায় তাদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো।

আদালতের দেওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় দুমকি উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে নানাবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ওই শহীদের মেয়ে (১৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

দুঃখজনকভাবে, ধর্ষণের ঘটনার মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরে লামিয়া (ছদ্মনাম) ২৬ এপ্রিল ঢাকার শেখেরটেক এলাকার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের পর এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা সন্দেহাতীতভাবে মামলাটি প্রমাণ করতে পেরেছি। আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন।”

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন মন্তব্য করেন, “এই মামলার রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে—অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতেই হবে।”

আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন এবং তাকে তার গ্রামের বাড়ি দুমকির পাঙ্গাশিয়া গ্রামে দাফন করা হয়। গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি ফেরার পথে দুমকির রাজগঞ্জ গ্রামে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন তিনি নিজেই দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর, ২৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তাকে গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ মামলায় ইমরান মুন্সীকে আসামি করা না হলেও, তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান মুন্সীর জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে এবং মেডিক্যাল রিপোর্টেও এর প্রমাণ মেলে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

28 October 2026

মিরপুর টেস্ট: মুমিনুলের বিদায়ে আক্ষেপ নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ আসামিকে কারাদণ্ড

হালনাগাদ সময় : ০৩:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

পটুয়াখালীতে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদ হওয়া এক ব্যক্তির কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিন আসামির মধ্যে দুজনকে (সাকিব ও সিফাত) ১৩ বছর করে এবং একজনকে (ইমরান) ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন এই রায় ঘোষণা করেন। যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্তরা ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তাই শিশু আদালত আইনের আওতায় তাদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো।

আদালতের দেওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় দুমকি উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে নানাবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ওই শহীদের মেয়ে (১৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

দুঃখজনকভাবে, ধর্ষণের ঘটনার মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরে লামিয়া (ছদ্মনাম) ২৬ এপ্রিল ঢাকার শেখেরটেক এলাকার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের পর এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা সন্দেহাতীতভাবে মামলাটি প্রমাণ করতে পেরেছি। আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন।”

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন মন্তব্য করেন, “এই মামলার রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে—অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতেই হবে।”

আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন এবং তাকে তার গ্রামের বাড়ি দুমকির পাঙ্গাশিয়া গ্রামে দাফন করা হয়। গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি ফেরার পথে দুমকির রাজগঞ্জ গ্রামে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন তিনি নিজেই দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর, ২৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তাকে গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ মামলায় ইমরান মুন্সীকে আসামি করা না হলেও, তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান মুন্সীর জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে এবং মেডিক্যাল রিপোর্টেও এর প্রমাণ মেলে।

Share this news as a Photo Card