কোলাহলময় এই বিশাল পৃথিবীতে পথ হারিয়ে ফেলা মানুষের জন্য স্রষ্টার সবচেয়ে বড় উপহার হলো এমন এক মানচিত্র, যা জীবনের প্রতিটি মোড়ে আলোর পথ দেখায়। পবিত্র কোরআনের দীর্ঘতম অধ্যায় ‘সুরা আল-বাকারাহ’ হলো ঠিক তেমনই এক পূর্ণাঙ্গ জীবনসংবিধান। এটি শুধু প্রাচীন কোনো ধর্মগ্রন্থের অংশ নয়; বরং মানুষের মনস্তত্ত্ব, পারিবারিক বন্ধন, সমাজভাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার এক অমলিন দিকনির্দেশনা। মদিনায় অবতীর্ণ এই সুরার গভীরতা থেকে প্রতিদিনের পথচলার জন্য ১০টি মূল অনুশাসন বেছে নেওয়া হলে তা জীবনের ক্যানভাস বদলে দিতে পারে।
জীবনের কুয়াশাচ্ছন্ন মোড়ে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, তা চেনার একমাত্র শক্তি হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি। অন্তরে পরম করুণাময়ের ভয় ও ভালোবাসা থাকলে জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে এক পরম স্থিরতা চলে আসে। এছাড়া, অন্যায় বা পাপ কখনোই একলাফে এসে মানুষড়ায় গ্রাস করে না; বরং শয়তান চতুরতার সঙ্গে ছোট প্রলোভন দিয়ে ভুল পথে টানে। ভুল করা মানুষের স্বভাব হলেও অহংকারে অন্ধ না হয়ে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাওয়াই মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য।
কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে মানুষ যখন দিকবিদিক হারিয়ে ফেলে, তখন ধৈর্য ও সালাতই তাকে অটল থাকার শক্তি জোগায়। জীবনের বিপদ যতই পাহাড়সম হোক না কেন, সালাতের সেজদায় নিজের কষ্ট ঢেলে দেওয়া এবং ধৈর্যের সঙ্গে সময়ের মুখোমুখি হওয়ার মাঝেই প্রকৃত ঈমান নিহিত রয়েছে। কোরআনের এসব সুমহান শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।


























