শুধু আধুনিক চিকিৎসাসেবা, ডায়ালিসিস মেশিন বা নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করে মানুষের অসুস্থতা ও মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধের মূল শর্ত হিসেবে সবার আগে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী গেইন ও নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকার হলো রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়া। ক্রনিক রোগ ও কিডনি জটিলতা কমাতে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে আসন্ন ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্রের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।
আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সমন্বিত পদক্ষেপে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার হার কমেছে। তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ এখনও আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করছেন। এই জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

























