জামায়াতে ইসলামীর হাতে দেশের নারীরা নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নেতারা একের পর এক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লেও দল থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এভাবে নীতি-আদর্শচ্যুত হয়ে চলতে থাকলে দলটি ধ্বংস হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশলবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, “জামায়াত মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের নেতারা একের পর এক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছে। সাতক্ষীরার গাজী নজরুলের ঘটনা এখনো মানুষের মুখে মুখে। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার এমপি ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার একটি অডিও রেকর্ড আমার হাতে এসেছে। ফ্যাক্ট চেক করে আমি এর সত্যতা পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এসব অনৈতিক ঘটনা বারবার সামনে আসা সত্ত্বেও জামায়াত তাদের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের হাতে নারীরা নিরাপদ নয়। জামায়াত আমীরের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্তদের অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করুন। এমন ব্যক্তিদের নিয়ে শরিয়া কায়দায় দল চালানো সম্ভব নয়।”
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, “বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি মূলত ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি। বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে তারা শরিয়া আইনের কথা অস্বীকার করলেও তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রেই তা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।”
এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্রতা টিকবে না দাবি করে তিনি বলেন, “জামায়াত ও এনসিপির আদর্শ তেল আর জলের মতো—যা কখনো মিশতে পারে না। নির্বাচনের আগে নতুন দল হিসেবে এনসিপি জোটে গেলেও তরুণেরা তা মেনে নেয়নি। ডা. তাসনিম জারা ও সামান্তা শারমিনের মতো তরুণ নেতৃত্বরা এই জোটের কারণেই দল ছেড়েছেন। এনসিপি এই জোট থেকে বেরিয়ে না এলে আরও বহু যোগ্য নেতৃত্ব দল ছাড়বে।”
এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম ওয়াজেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহিদ জোয়ার্দ্দার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


























