একজনের এই ম্যাচে খেলারই কথা ছিল না! অন্যজনের পরিচয় মূলত বোলার হিসেবে। অথচ মিরপুর টেস্টের সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছেন এই দুজনই। জাকের আলী অনিক ও নাঈম হাসান। দুজনের অপরাজিত ১৮ রানের ইনিংসে আপাতত টিকে আছে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের আশা। তবে সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে চতুর্থ দিনে অসাধারণ কিছু করতে হবে তাদের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে আজ তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড মিলিয়ে স্বাগতিকদের ব্যবধান ১০৬। হাতে আছে মাত্র চার উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে মিরপুরের কঠিন উইকেটে কতটা লড়াই করতে পারবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে সংশয় থাকাই স্বাভাবিক। তবে নাঈমের চোখে এখনো ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই অফ স্পিনারের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস। তার চাওয়া, যতটা সম্ভব বড় লক্ষ্য দাঁড় করানো। সেই লক্ষ্য পূরণে নিজের ও জাকেরের ওপর আস্থা রাখার কথাও বলেছেন তিনি, ‘দেখেন, আসলে আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান দিতে পারি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি। আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি চান, তাহলে যত বেশি রান দিতে পারব, ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।’
মিরপুরের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। বল কখনো নিচু হচ্ছে, কখনো ঘুরছে। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করা বাংলাদেশও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি। তাই ২০০ রানের লিডের স্বপ্ন দেখলেও সেই পথে পৌঁছানো কঠিন। বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পারবে কি না, এমন প্রশ্নেও অবশ্য আশাবাদ হারাননি নাঈম। তাঁর উত্তর, ‘ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি ভালো সংগ্রহ দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব।’
প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন নাঈম। মাত্র ১০ ওভার বল করে ৩৩ রানে নিয়েছিলেন চার উইকেট। এবার ব্যাট হাতে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার দায়িত্বও এসে পড়েছে তার কাঁধে। তবে লক্ষ্য নিয়ে এখনই হিসাব করতে চান না এই স্পিনার। তাঁর বিশ্বাস, উইকেট হাতে থাকায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাঈম বলেছেন, ‘আমাদের তো উইকেট আছে। ইনশাআল্লাহ আমরা ট্রাই তো করব, যত বেশি পারি। আমরা যত বেশি রান করতে পারব, ততই তো আমাদের জন্য ভালো।’
নিজের সামর্থ্যের পাশাপাশি জাকেরের ওপরও আস্থা রাখতে বলেছেন নাঈম। চতুর্থ দিনের শুরুতে এই জুটির দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তার কথায় স্পষ্ট। নাঈমের ভাষায়, ‘আপনারা বিশ্বাস করেন, আমরা যাতে-আমি আর জাকের ভাই যাতে বড় ইনিংস খেলতে পারি। প্রত্যেকদিন তো সবাই ভালো খেলে না। এবার সুযোগটা আমাদের কাছে আসছে। ইনশাআল্লাহ যদি আমরা ভালো কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বড় দলগুলো এই জায়গা থেকে ব্যাক করে। ইনশাআল্লাহ আমি আর জাকের ভাই চেষ্টা করব আমরা ব্যাক করার জন্য।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার ব্যাখ্যায় দিনের শেষভাগের আলোকস্বল্পতার কথাও সামনে এনেছেন নাঈম।


























