মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:৩৫ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

মিরপুরে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চাপে স্বাগতিকরা

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের স্পিনস্বর্গে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিডও আদায় করে নিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে আবারও চেনা দুর্বলতার প্রদর্শনী। ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হাতছাড়া করার পথে বাংলাদেশ। দিন শেষে দলের লিড ১০৬ রান হলেও সেই পুঁজিকে এখনো নিরাপদ বলার সুযোগ নেই।

ঢাকা টেস্টে আজ তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাই স্বস্তি ও শঙ্কার মিশ্র গল্প হয়ে থাকল। একদিকে বল হাতে দুর্দান্ত নাঈম হাসান, অন্যদিকে ব্যাট হাতে দলের একের পর এক আত্মসমর্পণ। শেষ পর্যন্ত দিনের আলো নিভে যাওয়ার আগেই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের আলোও নিভে আসছিল।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমেছে ২৪৫ রানে। সফরকারীদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন নাঈম হাসান। মাত্র ১০ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েও ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে শেষ দিকে তার স্পিনেই মাত্র ১১ রানের মধ্যে শেষ চার উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। তাতে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।

কিন্তু ব্যাটিংয়ে নামতেই সেই লিডের স্বস্তি উধাও! দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় স্কোরে মাত্র এক রান যোগ হতেই শামার জোসেফের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই শেষ হয় তার ইনিংস।

এরপর সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু সেই চেষ্টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রস্টন চেইসের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ৩০ বলে ১৩ রান করে ফেরেন সাদমান। একই ওভারে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলতে গিয়ে জোসেফের হাতে ক্যাচ তুলে দেন হৃদয়। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমানের বিদায়ের পর হৃদয়ের উইকেট পতন বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এরপর শান্তকেও বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি ক্যারিবীয় বোলাররা। চেইসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৭ বলে ১০ রান করে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি তার। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে বড় দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল অভিজ্ঞ ব্যাটারদের, কিন্তু কেউই সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতা থামেনি চা বিরতির পরও। বিরতিতে চার উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফিরে এসেই ১০ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন লিটন দাস। এরপর ৩২ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ারিক্যানের বলে স্টাম্প হারিয়ে বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়ান তিনি।

একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দলের ইনিংস ভেঙে পড়ার উপক্রম, তখন প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেন জাকের আলী অনিক ও নাঈম হাসান। ঘটনাচক্রে এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া জাকের এর আগে লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে বদলি ফিল্ডার হিসেবে উইকেটকিপিং করেছিলেন। পরে মাথায় আঘাত পেয়ে ছিটকে যাওয়া মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান তিনি।

সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন জাকের। নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে দিনের শেষ দিকে দলের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

মিরপুরে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চাপে স্বাগতিকরা

হালনাগাদ সময় : ১১:৩২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মিরপুরের স্পিনস্বর্গে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিডও আদায় করে নিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে আবারও চেনা দুর্বলতার প্রদর্শনী। ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হাতছাড়া করার পথে বাংলাদেশ। দিন শেষে দলের লিড ১০৬ রান হলেও সেই পুঁজিকে এখনো নিরাপদ বলার সুযোগ নেই।

ঢাকা টেস্টে আজ তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাই স্বস্তি ও শঙ্কার মিশ্র গল্প হয়ে থাকল। একদিকে বল হাতে দুর্দান্ত নাঈম হাসান, অন্যদিকে ব্যাট হাতে দলের একের পর এক আত্মসমর্পণ। শেষ পর্যন্ত দিনের আলো নিভে যাওয়ার আগেই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের আলোও নিভে আসছিল।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমেছে ২৪৫ রানে। সফরকারীদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন নাঈম হাসান। মাত্র ১০ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েও ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে শেষ দিকে তার স্পিনেই মাত্র ১১ রানের মধ্যে শেষ চার উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। তাতে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।

কিন্তু ব্যাটিংয়ে নামতেই সেই লিডের স্বস্তি উধাও! দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় স্কোরে মাত্র এক রান যোগ হতেই শামার জোসেফের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই শেষ হয় তার ইনিংস।

এরপর সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু সেই চেষ্টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রস্টন চেইসের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ৩০ বলে ১৩ রান করে ফেরেন সাদমান। একই ওভারে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলতে গিয়ে জোসেফের হাতে ক্যাচ তুলে দেন হৃদয়। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমানের বিদায়ের পর হৃদয়ের উইকেট পতন বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এরপর শান্তকেও বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি ক্যারিবীয় বোলাররা। চেইসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৭ বলে ১০ রান করে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি তার। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে বড় দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল অভিজ্ঞ ব্যাটারদের, কিন্তু কেউই সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতা থামেনি চা বিরতির পরও। বিরতিতে চার উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফিরে এসেই ১০ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন লিটন দাস। এরপর ৩২ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ারিক্যানের বলে স্টাম্প হারিয়ে বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়ান তিনি।

একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দলের ইনিংস ভেঙে পড়ার উপক্রম, তখন প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেন জাকের আলী অনিক ও নাঈম হাসান। ঘটনাচক্রে এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া জাকের এর আগে লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে বদলি ফিল্ডার হিসেবে উইকেটকিপিং করেছিলেন। পরে মাথায় আঘাত পেয়ে ছিটকে যাওয়া মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান তিনি।

সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন জাকের। নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে দিনের শেষ দিকে দলের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

Share this news as a Photo Card