যেকোনো ধরনের গুজব প্রতিরোধে ইসলামের মূল শিক্ষা হলো কোনো তথ্য শোোনামাত্রই তা অন্ধের মতো বিশ্বাস বা প্রচার না করে সত্যতা যাচাই করা। মানুষ সাধারণত পরিচিত কারও মুখ থেকে শোনা কথাকে সত্য বলে ধরে নেয়, কিন্তু ভুল তথ্য বা আংশিক সত্য ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন যে কারও জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। পবিত্র কোরআনেও তথ্য যাচাইয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো চাঞ্চল্যকর পোস্ট দেখলে তার মূল উৎস এবং নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক। কেবল লাইক, শেয়ার বা মন্তব্যের আধিক্য দেখে কোনো তথ্যকে সত্য বলে মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। না জেনে কোনো কথা প্রচার করা মারাত্মক অপরাধের শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে যা শোনে, তা-ই প্রচার করে।
গুজবের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ হলো যখন তা কারও চরিত্র বা সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে নৈতিক অবক্ষয় বা অপরাধের অভিযোগ তোলা কেবল সামাজিক অপরাধই নয়, বরং মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার এক গুরুতর অন্যায়। তাই যেকোনো তথ্য পাওয়ার পর তা নিয়ে কুধারণা পোষণ বা যাচাইহীনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।


























