পবিত্র মক্কার মসজিদে হারামে বৃষ্টির সময় ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ, তাওয়াফ ও দোয়ায় মশগুল ছিলেন মুসল্লি ও জিয়ারতকারীরা। সোমবার মক্কার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। এ সময় মসজিদে হারামে আগত উমরাযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের মক্কায় বৃষ্টির সময় সেখানে উপস্থিত মানুষ আনন্দিত হন, এ সময় দেখা যায়- সাধারণ মানুষ দলবেঁধে তাওয়াফ করছেন, দোয়া করছেন এবং উচ্চস্বরে তাকবির দিচ্ছেন। অর্থাৎ কাবা শরিফের চত্বরে বৃষ্টি হলে অনেক মুসল্লি ও জিয়ারতকারীকে আনন্দ প্রকাশ করতে, হাত তুলে দোয়া করতে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা যায়। এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, দোয়া কবুলের প্রত্যাশা এবং বৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা। এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—
বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে দেখা হয়: ইসলামে বৃষ্টিকে দয়াময় আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ ও জীবনের অন্যতম নেয়ামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির মাধ্যমে মৃতপ্রায় জমিনকে জীবিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই বৃষ্টি মুসলমানদের কাছে আল্লাহর রহমত ও সৃষ্টিজগতের জীবনের প্রতীক। কাবা শরিফের মতো পবিত্র স্থানে বৃষ্টি হলে অনেকের মনে ধর্মীয় আবেগ ও কৃতজ্ঞতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।
বৃষ্টির সময় করা দোয়া কবুল হয়: বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হজরত সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দু’টি সময়ের দোয়া কখনো ফেরত দেওয়া হয় না— ১. আজানের সময় এবং ২. বৃষ্টির সময়। (মুস্তাদরাকে হাকেম: ২৫৩৪)
যেহেতু বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে কাবা শরিফের চত্বরে বৃষ্টি শুরু হলে অনেক মুসল্লি হাত তুলে নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া করেন। কেউ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, কেউ সুস্থতা, রিজিক ও জীবনের কল্যাণ কামনা করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টিকে রহমত বলেছেন: বৃষ্টিতে আনন্দিত হওয়ার পেছনে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহরও সম্পর্ক রয়েছে। দমকা হওয়া বইতে দেখলে নবীজি (সা.) উদ্বিগ্ন হতেন। বৃষ্টি শুরু হলে তিনি খুশি হয়ে উঠতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, আমি এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমার আশঙ্কা হয়, আমার উম্মতের ওপর কোনো গজব আসে কি না।’ বৃষ্টি দেখলেই তিনি বলতেন, ‘এটি আল্লাহর রহমত।’ (সহিহ মুসলিম: ১৯৬৯)
প্রচণ্ড গরমে বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসে: মক্কায় বছরের অনেক সময় তাপমাত্রা বেশ বেশি থাকে। এ অবস্থায় বৃষ্টি হলে আবহাওয়া কিছুটা শীতল হয় এবং দীর্ঘ সময় ইবাদতে থাকা মুসল্লিরা স্বস্তি পান। কাবা শরিফের চারপাশে বৃষ্টির দৃশ্য তাদের কাছে আবেগঘন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। কাবা শরিফের চত্বরে বৃষ্টি হওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের আনন্দ প্রকাশের ধর্মীয় ও আবেগগত কারণ থাকলেও, সেখানে বৃষ্টি হলেই বিশেষ কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে কিংবা সব দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়— এমন দাবি করার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।


























