মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ঋণ খেলাপি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনায় প্রভিশন: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৫৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিবেদনের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি’ (Expected Credit Loss – ECL) পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS-9) অনুযায়ী এই পদ্ধতি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোর ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এর ফলে কোনো ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি অনুমান করে ব্যাংকগুলোকে আগাম প্রভিশন রাখতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক গাইডলাইনে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ খারাপ হওয়ার পর প্রভিশন সংরক্ষণ করে থাকে। কিন্তু IFRS-9 অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে ঋণের সম্ভাব্য ক্ষতির পূর্বাভাস এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেমন—জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি—বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এই নতুন পদ্ধতিতে কোনো ঋণ খেলাপি হলেও পুরো প্রভিশনের চাপ একসঙ্গে নিতে হবে না, যা ব্যাংকের মূলধন ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় মূলধন সমন্বয়ের জন্য ২০২৮ সাল থেকে অতিরিক্ত পাঁচ বছর সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য মূলধন চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়। নতুন পদ্ধতি চালুর ফলে কোনো ব্যাংকের মূলধন কমে গেলে নির্দিষ্ট হারে তা পুনঃসংযোজনের সুযোগও রাখা হয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী, IFRS-9 অনুযায়ী ঋণ তিনটি ধাপে শ্রেণিকরণ করা হবে। প্রথম ধাপে, স্বাভাবিক ঋণের ক্ষেত্রে আগামী ১২ মাসের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন নির্ধারণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে, ঋণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে পুরো মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন রাখতে হবে। এবং তৃতীয় ধাপে, ‘ক্রেডিট ইমপেয়ার্ড’ বা ক্ষতিগ্রস্ত ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, সুদ আয়ের স্বীকৃতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ঋণ খেলাপি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনায় প্রভিশন: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

হালনাগাদ সময় : ০৩:৫৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিবেদনের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি’ (Expected Credit Loss – ECL) পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS-9) অনুযায়ী এই পদ্ধতি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোর ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এর ফলে কোনো ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি অনুমান করে ব্যাংকগুলোকে আগাম প্রভিশন রাখতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক গাইডলাইনে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ খারাপ হওয়ার পর প্রভিশন সংরক্ষণ করে থাকে। কিন্তু IFRS-9 অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে ঋণের সম্ভাব্য ক্ষতির পূর্বাভাস এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেমন—জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি—বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এই নতুন পদ্ধতিতে কোনো ঋণ খেলাপি হলেও পুরো প্রভিশনের চাপ একসঙ্গে নিতে হবে না, যা ব্যাংকের মূলধন ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় মূলধন সমন্বয়ের জন্য ২০২৮ সাল থেকে অতিরিক্ত পাঁচ বছর সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য মূলধন চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়। নতুন পদ্ধতি চালুর ফলে কোনো ব্যাংকের মূলধন কমে গেলে নির্দিষ্ট হারে তা পুনঃসংযোজনের সুযোগও রাখা হয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী, IFRS-9 অনুযায়ী ঋণ তিনটি ধাপে শ্রেণিকরণ করা হবে। প্রথম ধাপে, স্বাভাবিক ঋণের ক্ষেত্রে আগামী ১২ মাসের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন নির্ধারণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে, ঋণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে পুরো মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন রাখতে হবে। এবং তৃতীয় ধাপে, ‘ক্রেডিট ইমপেয়ার্ড’ বা ক্ষতিগ্রস্ত ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, সুদ আয়ের স্বীকৃতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card