মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:১৩ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পেট্রোবাংলার দেউলিয়া দশা, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক দেশ

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চড়াদামে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে ভুগছে পেট্রোবাংলা। নেতিবাচক মূলধনের কারণে অনেক দেশেই আরও বাকিতে পণ্য দিতে রাজি হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি দেশের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির আলোচনা এ কারণে ভেস্তে গেছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

তবে সেই দেশটির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ওই কর্মকর্তা। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জি-টু-জি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির বিষয়টি অনেক অগ্রগতি হয়েছিল। পেট্রোবাংলার আর্থিক বিবরণী দেখার পরে বাকিতে এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে আপত্তি তোলেন। আমরা তখন বলেছি, আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, আপনিও সরকারি প্রতিষ্ঠান! আমরা আরও অনেক দেশের সঙ্গে ব্যবসা করি, এখানেও একই ফর্মূলা হবে। এলএনজি বাংলাদেশে আসবে, বিল জমা দেবেন আমরা পেমেন্ট দেবো। এতে তারা সম্মতি না দিলে আলোচনাটি ভেস্তে যায়।

ওই কর্মকর্তা জানায়, পেট্রোবাংলা এখন ঋণাত্মক মূলধনে ভুগছে। পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার পরিচালনাগত মুনাফায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে পরিচালনাগত মুনাফা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানের মূল পরিচালনাগত মুনাফা প্রায় ৭৩.৩৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পরিচালনাগত মুনাফা হ্রাসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চরম নগদ অর্থ সংকটে পড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অপারেটিং কার্যক্রম থেকে নেট ক্যাশ ফ্লো ১ হাজার ৫,৪৭৬ কোটি টাকা ইতিবাচক থাকলেও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ঋণাত্মকে রূপ নিয়েছে। এই বিপুল নগদ ঘাটতির প্রধান কারণ হলো এলএনজি অপারেশনাল বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা নগদ পরিশোধ করতে হয়েছে।

নগদ অর্থের এই তীব্র ঘাটতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলাকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে হয়েছে। ব্যাংক ও অন্যান্য উৎস থেকে নতুন করে ৪৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং ২৬ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রদেয় কর ও শুল্ক বাবদ দায়ের পরিমাণ ২০২৫ সালে ৬৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগদ টাকার অভাবে পেট্রোবাংলা পরিশোধ করতে পারেনি।

মোট পুঞ্জীভূত লোকসান মূলধনের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এখনো দেউলিয়া দশার মধ্যে রয়েছে। নিজস্ব অপারেটিং আয় দিয়ে এলএনজি আমদানি এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা পেট্রোবাংলার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন ভর্তুকির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু সেই ভর্তুকির অবস্থাও বেসামাল হয়ে পড়েছে। কমদামে বিক্রির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ২৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিলেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কাজল

29 October 2026

ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৫, মামলা ৪৬

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পেট্রোবাংলার দেউলিয়া দশা, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক দেশ

হালনাগাদ সময় : ১০:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চড়াদামে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে ভুগছে পেট্রোবাংলা। নেতিবাচক মূলধনের কারণে অনেক দেশেই আরও বাকিতে পণ্য দিতে রাজি হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি দেশের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির আলোচনা এ কারণে ভেস্তে গেছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

তবে সেই দেশটির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ওই কর্মকর্তা। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জি-টু-জি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির বিষয়টি অনেক অগ্রগতি হয়েছিল। পেট্রোবাংলার আর্থিক বিবরণী দেখার পরে বাকিতে এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে আপত্তি তোলেন। আমরা তখন বলেছি, আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, আপনিও সরকারি প্রতিষ্ঠান! আমরা আরও অনেক দেশের সঙ্গে ব্যবসা করি, এখানেও একই ফর্মূলা হবে। এলএনজি বাংলাদেশে আসবে, বিল জমা দেবেন আমরা পেমেন্ট দেবো। এতে তারা সম্মতি না দিলে আলোচনাটি ভেস্তে যায়।

ওই কর্মকর্তা জানায়, পেট্রোবাংলা এখন ঋণাত্মক মূলধনে ভুগছে। পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার পরিচালনাগত মুনাফায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে পরিচালনাগত মুনাফা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানের মূল পরিচালনাগত মুনাফা প্রায় ৭৩.৩৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পরিচালনাগত মুনাফা হ্রাসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চরম নগদ অর্থ সংকটে পড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অপারেটিং কার্যক্রম থেকে নেট ক্যাশ ফ্লো ১ হাজার ৫,৪৭৬ কোটি টাকা ইতিবাচক থাকলেও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ঋণাত্মকে রূপ নিয়েছে। এই বিপুল নগদ ঘাটতির প্রধান কারণ হলো এলএনজি অপারেশনাল বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা নগদ পরিশোধ করতে হয়েছে।

নগদ অর্থের এই তীব্র ঘাটতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলাকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে হয়েছে। ব্যাংক ও অন্যান্য উৎস থেকে নতুন করে ৪৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং ২৬ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রদেয় কর ও শুল্ক বাবদ দায়ের পরিমাণ ২০২৫ সালে ৬৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগদ টাকার অভাবে পেট্রোবাংলা পরিশোধ করতে পারেনি।

মোট পুঞ্জীভূত লোকসান মূলধনের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এখনো দেউলিয়া দশার মধ্যে রয়েছে। নিজস্ব অপারেটিং আয় দিয়ে এলএনজি আমদানি এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা পেট্রোবাংলার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন ভর্তুকির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু সেই ভর্তুকির অবস্থাও বেসামাল হয়ে পড়েছে। কমদামে বিক্রির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ২৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card