ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বেতন ও পদোন্নতির দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: ব্যাহত পাঠদান, আশঙ্কায় অভিভাবক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধি (দশম গ্রেড) ও পদোন্নতির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ, রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় প্রায় সাড়ে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের এক কোটিরও বেশি শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকদের পাঠদান বন্ধ থাকায় তাদের ক্লাস না করেই ফিরতে হচ্ছে।

দশম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষকরা গত শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পুলিশের হামলার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, ঢাকায় শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ ক্ষুব্ধ। ন্যায্য সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে। সরকার দাবি না মানলে প্রয়োজনে স্কুলে তালা লাগানোর কথাও বলেন তিনি।

বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষকদের এমন কর্মসূচিতে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা গভীর শঙ্কায় পড়েছেন। বিশেষ করে, যে সকল শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি। এর আগে মে মাসে তারা ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে ক্লাসে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিষদের আরেক নেতা আবুল কাশেম।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার মনে করেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার পরে সহকারী শিক্ষকদের এক লাফে দশম গ্রেডের দাবি যৌক্তিক নয়। তিনি জানান, সরকার সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার জন্য কাজ করছে এবং এই মুহূর্তে শিক্ষকদের আন্দোলনে যাওয়াও ঠিক নয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে বারবার কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি ভয়াবহভাবে বাড়বে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

বেতন ও পদোন্নতির দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: ব্যাহত পাঠদান, আশঙ্কায় অভিভাবক

আপডেট সময় : ১০:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধি (দশম গ্রেড) ও পদোন্নতির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ, রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় প্রায় সাড়ে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের এক কোটিরও বেশি শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকদের পাঠদান বন্ধ থাকায় তাদের ক্লাস না করেই ফিরতে হচ্ছে।

দশম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষকরা গত শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পুলিশের হামলার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, ঢাকায় শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ ক্ষুব্ধ। ন্যায্য সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে। সরকার দাবি না মানলে প্রয়োজনে স্কুলে তালা লাগানোর কথাও বলেন তিনি।

বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষকদের এমন কর্মসূচিতে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা গভীর শঙ্কায় পড়েছেন। বিশেষ করে, যে সকল শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি। এর আগে মে মাসে তারা ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে ক্লাসে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিষদের আরেক নেতা আবুল কাশেম।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার মনে করেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার পরে সহকারী শিক্ষকদের এক লাফে দশম গ্রেডের দাবি যৌক্তিক নয়। তিনি জানান, সরকার সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার জন্য কাজ করছে এবং এই মুহূর্তে শিক্ষকদের আন্দোলনে যাওয়াও ঠিক নয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে বারবার কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি ভয়াবহভাবে বাড়বে।