ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান: আস্থার অপর নাম

একজন সামরিক নেতার জীবন কেমন হয়? সাধারণের চোখে হয়তো শুধুই শৃঙ্খলা, কঠোরতা আর আদেশের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু যখন সেই শৃঙ্খলার সাথে মানবিক প্রজ্ঞা আর গভীর ধৈর্য যুক্ত হয়, তখন তিনি কেবল একজন অফিসার থাকেন না, হয়ে ওঠেন একটি জাতির আস্থার প্রতীক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঠিক তেমনই একজন নেতা।

তাঁর যাত্রা শুরু সেই ১৯৮৫ সালে, বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির তরুণ অফিসার হিসেবে। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ পথচলায় তিনি সেনাবাহিনীতে একেবারে তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি ব্যাটালিয়ন, একটি ব্রিগেড এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিভিশন—সবখানেই তিনি তাঁর القيادةের ছাপ রেখেছেন।

কিন্তু জেনারেল ওয়াকারের পরিচয় শুধু একজন ফিল্ড কমান্ডারের নয়। তিনি একজন ‘শিক্ষক’—সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে তিনি অগণিত ভবিষ্যৎ কর্মকর্তাকে প্রস্তুত করেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অ্যাঙ্গোলা ও লাইবেরিয়ার মতো দেশে জাতিসংঘের শান্তি মিশনেও তিনি বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবেও তিনি সামরিক প্রশাসনের আধুনিকায়নে নিরবে কাজ করে গেছেন।

তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি আসে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। দেশ তখন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে। উত্তাল ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় যখন সবাই দিশেহারা, তখন সেনাবাহিনী অত্যন্ত সংযম ও ধৈর্যের সাথে জনগণের পাশে দাঁড়ায়। ঠিক সেই નિર્ણায়ক মুহূর্তে জেনারেল ওয়াকারের একটি কথাই পরিস্থিতি বদলে দেয়: “আর নয় গুলি।”

এই একটি বাক্য কেবল একটি সামরিক আদেশ ছিল না; এটি ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে একটি মানবিক বার্তা। এটি ছিল প্রজ্ঞা, মমতা আর ধৈর্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, القيادةের আসল শক্তি অস্ত্রের গর্জনে নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রজ্ঞায় নিহিত।

বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বেই সেনাবাহিনী একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক যুদ্ধকৌশল আর বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ—সবকিছুতেই তিনি দূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ যে আজ এক নম্বর নাম, তার পেছনেও রয়েছে তাঁর মতো পেশাদার القيادةের অবদান।

পোশাকি পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘে ‘জেন্ডার অ্যাডভোকেট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই জেনারেল মানবিক মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতা নিয়েও অত্যন্ত সোচ্চার।

একজন সত্যিকারের নেতা কেবল যুদ্ধের জন্য সেনা তৈরি করেন না, তিনি শান্তির পথও তৈরি করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেই বিরল সেনাপতি, যিনি সেনাবাহিনীকে শুধু শক্তিশালী নয়, মানবিক ও জনবান্ধব করে তোলার চেষ্টা করছেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাঁর মতো একজন নেতার উপস্থিতিই জাতির জন্য বড় ভরসার জায়গা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানি চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়ন ফি দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান: আস্থার অপর নাম

আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

একজন সামরিক নেতার জীবন কেমন হয়? সাধারণের চোখে হয়তো শুধুই শৃঙ্খলা, কঠোরতা আর আদেশের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু যখন সেই শৃঙ্খলার সাথে মানবিক প্রজ্ঞা আর গভীর ধৈর্য যুক্ত হয়, তখন তিনি কেবল একজন অফিসার থাকেন না, হয়ে ওঠেন একটি জাতির আস্থার প্রতীক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঠিক তেমনই একজন নেতা।

তাঁর যাত্রা শুরু সেই ১৯৮৫ সালে, বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির তরুণ অফিসার হিসেবে। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ পথচলায় তিনি সেনাবাহিনীতে একেবারে তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি ব্যাটালিয়ন, একটি ব্রিগেড এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিভিশন—সবখানেই তিনি তাঁর القيادةের ছাপ রেখেছেন।

কিন্তু জেনারেল ওয়াকারের পরিচয় শুধু একজন ফিল্ড কমান্ডারের নয়। তিনি একজন ‘শিক্ষক’—সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে তিনি অগণিত ভবিষ্যৎ কর্মকর্তাকে প্রস্তুত করেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অ্যাঙ্গোলা ও লাইবেরিয়ার মতো দেশে জাতিসংঘের শান্তি মিশনেও তিনি বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবেও তিনি সামরিক প্রশাসনের আধুনিকায়নে নিরবে কাজ করে গেছেন।

তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি আসে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। দেশ তখন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে। উত্তাল ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় যখন সবাই দিশেহারা, তখন সেনাবাহিনী অত্যন্ত সংযম ও ধৈর্যের সাথে জনগণের পাশে দাঁড়ায়। ঠিক সেই નિર્ણায়ক মুহূর্তে জেনারেল ওয়াকারের একটি কথাই পরিস্থিতি বদলে দেয়: “আর নয় গুলি।”

এই একটি বাক্য কেবল একটি সামরিক আদেশ ছিল না; এটি ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে একটি মানবিক বার্তা। এটি ছিল প্রজ্ঞা, মমতা আর ধৈর্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, القيادةের আসল শক্তি অস্ত্রের গর্জনে নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রজ্ঞায় নিহিত।

বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বেই সেনাবাহিনী একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক যুদ্ধকৌশল আর বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ—সবকিছুতেই তিনি দূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ যে আজ এক নম্বর নাম, তার পেছনেও রয়েছে তাঁর মতো পেশাদার القيادةের অবদান।

পোশাকি পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘে ‘জেন্ডার অ্যাডভোকেট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই জেনারেল মানবিক মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতা নিয়েও অত্যন্ত সোচ্চার।

একজন সত্যিকারের নেতা কেবল যুদ্ধের জন্য সেনা তৈরি করেন না, তিনি শান্তির পথও তৈরি করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেই বিরল সেনাপতি, যিনি সেনাবাহিনীকে শুধু শক্তিশালী নয়, মানবিক ও জনবান্ধব করে তোলার চেষ্টা করছেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাঁর মতো একজন নেতার উপস্থিতিই জাতির জন্য বড় ভরসার জায়গা।