ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

“শিবলী রুবাইয়াতের জামিন হলো না (বা জামিন পেলেন না)।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

দুদকের করা একটা মামলায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের জামিন আবেদন আদালত নাকচ (নামঞ্জুর) করে দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে জামিনের শুনানির জন্য তাকে ঢাকা মহানগর আদালতের হাজতে আনা হয়েছিল। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে হাজতখানা থেকে তাকে মহানগর আদালতে ওঠানো হয়। তখন আসামির পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, “শিবলী রুবাইয়াতের গাজীপুরে একটা পৈত্রিক জায়গা আছে। ২০২১ সালে তিনি তার বাবার ওই জায়গায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিকের সঙ্গে জমি উন্নয়ন (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) আর ভাড়া দেওয়ার জন্য একটা চুক্তি করেন। সেই চুক্তি অনুসারেই টাকাটা আসে। কিন্তু পরে, আরেকজন লোক এই টাকার ওপর আপত্তি জানিয়ে তা দাবি করে বসেন। এই বিষয়টা মেটানোর (নিষ্পত্তির) জন্য আদালতেও একটা মামলা হয়। ২০২১ সালের আমাদের সেই ব্যক্তিগত একটা চুক্তির বিষয়েই এখন দুদক মামলা করেছে। এটা আসলে পুরোপুরি আমাদের ব্যক্তিগত একটা চুক্তি।” আইনজীবী আরও বলেন, “তাছাড়া, সিকিউরিটিজে একটা ব্রোকারেজ হাউজকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সেখানেও তো অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কিছু নেই। নিয়ম হলো, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করতে হয়, টাকা জমা দিতে হয়, এরপর প্রক্রিয়া শেষ হলে লাইসেন্স আসে। এখানে যারা নিয়ম মেনে আবেদন করবে, তারাই তো সুবিধা পাবে। এতে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কী আছে? আমরা ওনার জামিন চাইছি।”

এরপরেই, শিবলী রুবাইয়াত নিজে কথা বলার জন্য তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের অনুমতি চান। কিন্তু আদালত তখন আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি ওনার পক্ষে যথেষ্টই বলেছেন।” এই কথা বলার পরই আদালত জামিনের আবেদনটি নাকচ (নামঞ্জুর) করে দেন।

শুনানি শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, শিবলী রুবাইয়াত তার আইনজীবীর সঙ্গে কিছু একটা পরামর্শ (কথা) করছেন। পরে, ১২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে হেলমেট আর বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালত থেকে আবার মহানগরের হাজত খানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুপুর সোয়া একটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে, আসামি শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম একটা ভুয়া বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং এর মাধ্যমে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা (যা প্রায় দুই লাখ ২৬ হাজার ৩০৮ ইউএস ডলারের সমান) ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। এছাড়া, তিনি নাকি একটা ভুয়া বিক্রয় চুক্তি দেখিয়ে কোনো পণ্য রফতানি না করেই প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের একজন শিক্ষক। তিনি ২০২০ সালের ১৭ মে প্রথমবার বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। চার বছর সেই দায়িত্ব পালনের পর, গত বছরের ১৬ মে তিনি আবার নতুন করে (পুনর্নিয়োগ পেয়ে) বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

“শিবলী রুবাইয়াতের জামিন হলো না (বা জামিন পেলেন না)।”

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

দুদকের করা একটা মামলায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের জামিন আবেদন আদালত নাকচ (নামঞ্জুর) করে দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে জামিনের শুনানির জন্য তাকে ঢাকা মহানগর আদালতের হাজতে আনা হয়েছিল। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে হাজতখানা থেকে তাকে মহানগর আদালতে ওঠানো হয়। তখন আসামির পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, “শিবলী রুবাইয়াতের গাজীপুরে একটা পৈত্রিক জায়গা আছে। ২০২১ সালে তিনি তার বাবার ওই জায়গায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিকের সঙ্গে জমি উন্নয়ন (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) আর ভাড়া দেওয়ার জন্য একটা চুক্তি করেন। সেই চুক্তি অনুসারেই টাকাটা আসে। কিন্তু পরে, আরেকজন লোক এই টাকার ওপর আপত্তি জানিয়ে তা দাবি করে বসেন। এই বিষয়টা মেটানোর (নিষ্পত্তির) জন্য আদালতেও একটা মামলা হয়। ২০২১ সালের আমাদের সেই ব্যক্তিগত একটা চুক্তির বিষয়েই এখন দুদক মামলা করেছে। এটা আসলে পুরোপুরি আমাদের ব্যক্তিগত একটা চুক্তি।” আইনজীবী আরও বলেন, “তাছাড়া, সিকিউরিটিজে একটা ব্রোকারেজ হাউজকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সেখানেও তো অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কিছু নেই। নিয়ম হলো, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করতে হয়, টাকা জমা দিতে হয়, এরপর প্রক্রিয়া শেষ হলে লাইসেন্স আসে। এখানে যারা নিয়ম মেনে আবেদন করবে, তারাই তো সুবিধা পাবে। এতে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কী আছে? আমরা ওনার জামিন চাইছি।”

এরপরেই, শিবলী রুবাইয়াত নিজে কথা বলার জন্য তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের অনুমতি চান। কিন্তু আদালত তখন আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি ওনার পক্ষে যথেষ্টই বলেছেন।” এই কথা বলার পরই আদালত জামিনের আবেদনটি নাকচ (নামঞ্জুর) করে দেন।

শুনানি শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, শিবলী রুবাইয়াত তার আইনজীবীর সঙ্গে কিছু একটা পরামর্শ (কথা) করছেন। পরে, ১২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে হেলমেট আর বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালত থেকে আবার মহানগরের হাজত খানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুপুর সোয়া একটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে, আসামি শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম একটা ভুয়া বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং এর মাধ্যমে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা (যা প্রায় দুই লাখ ২৬ হাজার ৩০৮ ইউএস ডলারের সমান) ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। এছাড়া, তিনি নাকি একটা ভুয়া বিক্রয় চুক্তি দেখিয়ে কোনো পণ্য রফতানি না করেই প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের একজন শিক্ষক। তিনি ২০২০ সালের ১৭ মে প্রথমবার বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। চার বছর সেই দায়িত্ব পালনের পর, গত বছরের ১৬ মে তিনি আবার নতুন করে (পুনর্নিয়োগ পেয়ে) বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।