ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকে এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ খালাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। একইসাথে, তার বিরুদ্ধে থাকা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার রায়টিও বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই খালাসের রায় দেন। এই মামলার আরেক আসামি, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের তৎকালীন মহাসচিব শাহ আলম চৌধুরীকে আগেই খালাস দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-২ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান একটি রায়ে রেদোয়ান আহমেদকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে এলডিপি’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেছেন, “২০২৩ সালের ওই রায়টি ছিল স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের একটি পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত নকশার অংশ।” তিনি দাবি করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং মামলা দায়েরের সময় থেকেই তারা এটিকে ‘মিথ্যা মামলা’ বলে আসছিলেন।

২০২৩ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে একে “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক” বলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সে সময় এলডিপি‘র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মামলাটিকে অসত্য এবং জনপ্রিয় নেতাদের জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১/১১ পরবর্তী ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিন সরকারের আমলে, ২০০৭ সালে, এই মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে রমনা থানায় দায়ের করা এই মামলায় রেদোয়ান আহমেদসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল। অন্য দুই আসামি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের তৎকালীন চেয়ারম্যান কবির আহমেদ এবং মহাসচিব শাহ আলম চৌধুরী। পরে ২০২০ সালের ২০ আগস্ট রেদোয়ান ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে।

ড. রেদোয়ান আহমেদের আইনজীবী এস.এম শাহজাহান বলেন, “দুদক তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেছিল। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ফলে পুরো মামলাটিই ছিল অপ্রাসঙ্গিক।”

এ ব্যাপারে ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “এক-এগারোর সরকার সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রভাব খাটিয়ে তাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের সব মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু বিরোধী পক্ষকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো বহাল রেখেছিল।”

ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লার চান্দিনা (কুমিল্লা-৭) আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপি সরকারের আমলে তিনি দুইবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকে এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ খালাস

আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। একইসাথে, তার বিরুদ্ধে থাকা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার রায়টিও বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই খালাসের রায় দেন। এই মামলার আরেক আসামি, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের তৎকালীন মহাসচিব শাহ আলম চৌধুরীকে আগেই খালাস দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-২ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান একটি রায়ে রেদোয়ান আহমেদকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে এলডিপি’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেছেন, “২০২৩ সালের ওই রায়টি ছিল স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের একটি পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত নকশার অংশ।” তিনি দাবি করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং মামলা দায়েরের সময় থেকেই তারা এটিকে ‘মিথ্যা মামলা’ বলে আসছিলেন।

২০২৩ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে একে “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক” বলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সে সময় এলডিপি‘র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মামলাটিকে অসত্য এবং জনপ্রিয় নেতাদের জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১/১১ পরবর্তী ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিন সরকারের আমলে, ২০০৭ সালে, এই মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে রমনা থানায় দায়ের করা এই মামলায় রেদোয়ান আহমেদসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল। অন্য দুই আসামি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের তৎকালীন চেয়ারম্যান কবির আহমেদ এবং মহাসচিব শাহ আলম চৌধুরী। পরে ২০২০ সালের ২০ আগস্ট রেদোয়ান ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে।

ড. রেদোয়ান আহমেদের আইনজীবী এস.এম শাহজাহান বলেন, “দুদক তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেছিল। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ফলে পুরো মামলাটিই ছিল অপ্রাসঙ্গিক।”

এ ব্যাপারে ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “এক-এগারোর সরকার সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রভাব খাটিয়ে তাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের সব মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু বিরোধী পক্ষকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো বহাল রেখেছিল।”

ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লার চান্দিনা (কুমিল্লা-৭) আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপি সরকারের আমলে তিনি দুইবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।