ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বায়রা নির্বাচন: শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রার্থীদের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর আসন্ন নির্বাচন (২০২৬-২০২৮) উপলক্ষে সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন প্রার্থীরা। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত সংলাপে প্রার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। 

আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত সংলাপে প্রার্থীরা তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। এগুলো হলো— বায়রা-কে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, কর্মীদের নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ ও গন্তব্য দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। 

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ১০ হাজার বর্গফুটের অফিসসহ যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে তাতে আসলে সিন্ডিকেট এবং বৃহৎ রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থই রক্ষিত হবে বলে মনে করেন সাধারণ সদস্যরা। গতকাল এক মিটিং-এ লটারির মাধ্যমে প্রধান পদে নির্বাচনের বিষয়টি সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনি প্রার্থী ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, বায়রা’র বিভিন্ন কমিটিতে সাধারণ সদস্যরা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছেন না। তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংগঠনের নিজস্ব ‘আরবিট্রেশন’ (সালিশি) ব্যবস্থা সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের কল্যাণে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করবেন বলেও জানান তিনি।  

অপর প্রার্থী দিদারুল হক রিক্রুটিং সেক্টরে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকার ও বায়রা’র সমন্বয়ে একটি কার্যকর ডিজিটাল সিস্টেম গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। সভাপতি পদপ্রার্থী রিয়াজ-উল-ইসলাম বায়রা’র বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এছাড়া সাবেক কমিটি প্রধান রেহানা পারভিন সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একক প্রাধান্য কমিয়ে সম্মিলিত নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। 

সংলাপে সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, যেখানে এজেন্সির সংখ্যা কমানোর সুপারিশ ছিল, সেখানে আরও ২৬৫টি নতুন লাইসেন্স দেওয়া সরকারের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি। রামরুর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, “রাজনীতি, আমলাতন্ত্র এবং গুটিকয়েক এজেন্সির মধ্যকার অশুভ আঁতাত বন্ধ করাই এবারের নির্বাচনের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত।” 

সংলাপে প্রার্থীদের জন্য একটি লিখিত নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি শাকিল আকতার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বায়রা নির্বাচনের প্রার্থী, সাবেক নেতারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

বায়রা নির্বাচন: শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রার্থীদের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর আসন্ন নির্বাচন (২০২৬-২০২৮) উপলক্ষে সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন প্রার্থীরা। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত সংলাপে প্রার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। 

আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত সংলাপে প্রার্থীরা তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। এগুলো হলো— বায়রা-কে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, কর্মীদের নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ ও গন্তব্য দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। 

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ১০ হাজার বর্গফুটের অফিসসহ যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে তাতে আসলে সিন্ডিকেট এবং বৃহৎ রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থই রক্ষিত হবে বলে মনে করেন সাধারণ সদস্যরা। গতকাল এক মিটিং-এ লটারির মাধ্যমে প্রধান পদে নির্বাচনের বিষয়টি সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনি প্রার্থী ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, বায়রা’র বিভিন্ন কমিটিতে সাধারণ সদস্যরা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছেন না। তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংগঠনের নিজস্ব ‘আরবিট্রেশন’ (সালিশি) ব্যবস্থা সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের কল্যাণে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করবেন বলেও জানান তিনি।  

অপর প্রার্থী দিদারুল হক রিক্রুটিং সেক্টরে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকার ও বায়রা’র সমন্বয়ে একটি কার্যকর ডিজিটাল সিস্টেম গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। সভাপতি পদপ্রার্থী রিয়াজ-উল-ইসলাম বায়রা’র বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এছাড়া সাবেক কমিটি প্রধান রেহানা পারভিন সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একক প্রাধান্য কমিয়ে সম্মিলিত নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। 

সংলাপে সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, যেখানে এজেন্সির সংখ্যা কমানোর সুপারিশ ছিল, সেখানে আরও ২৬৫টি নতুন লাইসেন্স দেওয়া সরকারের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি। রামরুর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, “রাজনীতি, আমলাতন্ত্র এবং গুটিকয়েক এজেন্সির মধ্যকার অশুভ আঁতাত বন্ধ করাই এবারের নির্বাচনের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত।” 

সংলাপে প্রার্থীদের জন্য একটি লিখিত নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি শাকিল আকতার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বায়রা নির্বাচনের প্রার্থী, সাবেক নেতারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।