আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে টার্গেট কিলিং বা সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পেশাদার ও ভাড়াটে শ্যুটারদের গ্রেফতারে সারাদেশে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযানে সক্রিয় সহযোগিতা দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবনতি নিয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী রাজধানীর ৫০টি থানা ও গোয়েন্দা বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দেশের প্রতিটি ইউনিটে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, পলাতক ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনে ভাড়াটে শ্যুটাররা এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা।
শনিবার বিকেল থেকে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে রাজধানীর ৮২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, টার্গেট কিলিংয়ে জড়িতদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং অনেককে এরই মধ্যে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ জানুয়ারি যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর, ৫ জানুয়ারি সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগী এবং চট্টগ্রামের রাউজানে সাবেক যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে একইভাবে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ডিসেম্বরে খুলনায় সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন এবং রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া মিরপুরে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া এবং সূত্রাপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকেও প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভাড়াটে শ্যুটারদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। সূত্রাপুরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই শ্যুটার রুবেল ও ইব্রাহিম স্বীকার করেছে যে তারা টাকার বিনিময়ে এসব খুনের কাজ করে। তবে ওসমান হাদি হত্যার মূল ঘাতক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এখনো পলাতক থাকায় জনমনে আতঙ্ক কাটছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে এবং পেশাদার খুনিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 
























