ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি: প্রার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ অগ্রাধিকার

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনের আগে ও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে সপ্তাহে অন্তত এক বা দুদিন প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রার্থী চাইলে অর্থের বিনিময়ে আনসার সদস্য নিতে পারবেন; এছাড়া সরকারিভাবে গানম্যান, লাইসেন্স করা অস্ত্র সুবিধা ও সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

নির্বাচনি পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুলিশি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৭ দিনে সারাদেশে ৬৪ হাজার ৮৭টি চেকপোস্ট বসিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ গাড়ি এবং ৭৪ লাখের বেশি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়েছে। এই অভিযানে ২৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারসহ মোট ৩৯ হাজার ৫৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৬ হাজার ৩৮২ জন সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ২৩ হাজার ১৪৮ জন আসামি রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত সদস্যদের ‘বডিওর্ন ক্যামেরা’ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা রুখতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, নির্বাচন অফিস ও ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা বা অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা যাতে সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সরকারের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো মহল যাতে সংখ্যালঘুদের উসকানি দিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থানা থেকে লুণ্ঠিত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লাইসেন্সকৃত অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। গত ২৭ দিনের অভিযানে রাইফেল, পিস্তল, রিভলবার ও পাইপগানসহ বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মোবাইল টিম মোতায়েনের পাশাপাশি সব উপজেলায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা পুলিশি ফোর্সের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি: প্রার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ অগ্রাধিকার

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনের আগে ও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে সপ্তাহে অন্তত এক বা দুদিন প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রার্থী চাইলে অর্থের বিনিময়ে আনসার সদস্য নিতে পারবেন; এছাড়া সরকারিভাবে গানম্যান, লাইসেন্স করা অস্ত্র সুবিধা ও সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

নির্বাচনি পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুলিশি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৭ দিনে সারাদেশে ৬৪ হাজার ৮৭টি চেকপোস্ট বসিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ গাড়ি এবং ৭৪ লাখের বেশি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়েছে। এই অভিযানে ২৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারসহ মোট ৩৯ হাজার ৫৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৬ হাজার ৩৮২ জন সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ২৩ হাজার ১৪৮ জন আসামি রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত সদস্যদের ‘বডিওর্ন ক্যামেরা’ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা রুখতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, নির্বাচন অফিস ও ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা বা অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা যাতে সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সরকারের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো মহল যাতে সংখ্যালঘুদের উসকানি দিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থানা থেকে লুণ্ঠিত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লাইসেন্সকৃত অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। গত ২৭ দিনের অভিযানে রাইফেল, পিস্তল, রিভলবার ও পাইপগানসহ বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মোবাইল টিম মোতায়েনের পাশাপাশি সব উপজেলায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা পুলিশি ফোর্সের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।