ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, উগ্রবাদকে বৈধতা দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার: শেখ হাসিনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উগ্রবাদকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো সকল নাগরিককে সমান সুরক্ষা দেওয়া, যা পালনে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে তিনি ‘বর্বর ও লজ্জাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, দিপু দাসের বিরুদ্ধে আনা ব্লাসফেমির অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন, যা মূলত কর্মক্ষেত্রের বিরোধের জেরে ঘটানো হয়েছে। তার মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দেশজুড়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটি অংশ।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ধর্মীয় উগ্রবাদীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং দণ্ডিত সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার শাসনামলে আমি দেশীয় সন্ত্রাসবাদী ইউনিটগুলোকে দমনে এবং সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। কিন্তু বর্তমান সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে উগ্রবাদ এখন সমাজের প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে এসে মূলধারায় জায়গা করে নিচ্ছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চরমপন্থা কেবল সংখ্যালঘুদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যও বড় হুমকি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক অংশীদারদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্যানুযায়ী, শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৫১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ড রয়েছে। যশোর, ঝিনাইদহ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, লুটপাট ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ড. ইউনূস নিজে এই সহিংসতাগুলোর ধর্মীয় কারণ অস্বীকার করে চলেছেন, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একবার চরমপন্থা জেঁকে বসলে তা নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল হবে ভয়াবহ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, উগ্রবাদকে বৈধতা দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০২:৩২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উগ্রবাদকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো সকল নাগরিককে সমান সুরক্ষা দেওয়া, যা পালনে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে তিনি ‘বর্বর ও লজ্জাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, দিপু দাসের বিরুদ্ধে আনা ব্লাসফেমির অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন, যা মূলত কর্মক্ষেত্রের বিরোধের জেরে ঘটানো হয়েছে। তার মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দেশজুড়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটি অংশ।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ধর্মীয় উগ্রবাদীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং দণ্ডিত সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার শাসনামলে আমি দেশীয় সন্ত্রাসবাদী ইউনিটগুলোকে দমনে এবং সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। কিন্তু বর্তমান সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে উগ্রবাদ এখন সমাজের প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে এসে মূলধারায় জায়গা করে নিচ্ছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চরমপন্থা কেবল সংখ্যালঘুদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যও বড় হুমকি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক অংশীদারদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্যানুযায়ী, শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৫১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ড রয়েছে। যশোর, ঝিনাইদহ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, লুটপাট ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ড. ইউনূস নিজে এই সহিংসতাগুলোর ধর্মীয় কারণ অস্বীকার করে চলেছেন, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একবার চরমপন্থা জেঁকে বসলে তা নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল হবে ভয়াবহ।