মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:০১ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

এলডিসি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের সিরিজ বৈঠক

  • হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র জানতে ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের মিশন সিরিজ বৈঠক করছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বেঠক করেন জাতিসংঘের এলডিসি-বিষয়ক দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোনাল্ড মোলেরুস।

এর আগে রবিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, দেশ এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। রাজনৈতিক রূপান্তর আমাদের চ্যালেঞ্জ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। এলডিসি উত্তরণ উদযাপন থেকে উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এখন ‘ন্যারেটিভ’ পরিবর্তন হয়েছে। এজন্য তারা এলডিসি থেকে উত্তরণে সময় পেছানোর কথা জানিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন আনিসুজ্জামান।

জানা যায়, গত ৮ বছরের নানা প্রক্রিয়া ও একাধিক মূল্যায়ন শেষে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে বের হবে বাংলাদেশ, এমন সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের। সেই হিসেবে এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের সামনে সময় আছে ১২ মাসের কিছুটা বেশি। এই সময়ে এসে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে ব্যবসায়ী সমাজ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে সংকট তৈরি হবে। এমন উদ্বেগ জানিয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ ২০২৬ সাল থেকে পিছিয়ে ২০৩২ সালে নির্ধারণের দাবি করে সরকারের কাছে সম্প্রতি চিঠি দেয় শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলো। ব্যবসায়ীদের এ উদ্বেগ জাতিসংঘকে জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে জাতিসংঘকে বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন মূল্যায়নের অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সামস্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রভাব বিশ্লেষণ এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নে তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এই মূল্যায়ন করা হবে। সফরকালে অংশীজনদের কাছ থেকেও নানা তথ্য সংগ্রহ করবে এ মিশন।

ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা মনে করছেন, এলডিসি থেকে বের হলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশের রফতানি খাতকে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধ শিল্পের ওপর মেধাস্বত্ব বিধিবিধান আরও কড়াকড়ি হবে। উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে রফতানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

এলডিসি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের সিরিজ বৈঠক

হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র জানতে ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের মিশন সিরিজ বৈঠক করছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বেঠক করেন জাতিসংঘের এলডিসি-বিষয়ক দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোনাল্ড মোলেরুস।

এর আগে রবিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, দেশ এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। রাজনৈতিক রূপান্তর আমাদের চ্যালেঞ্জ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। এলডিসি উত্তরণ উদযাপন থেকে উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এখন ‘ন্যারেটিভ’ পরিবর্তন হয়েছে। এজন্য তারা এলডিসি থেকে উত্তরণে সময় পেছানোর কথা জানিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন আনিসুজ্জামান।

জানা যায়, গত ৮ বছরের নানা প্রক্রিয়া ও একাধিক মূল্যায়ন শেষে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে বের হবে বাংলাদেশ, এমন সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের। সেই হিসেবে এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের সামনে সময় আছে ১২ মাসের কিছুটা বেশি। এই সময়ে এসে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে ব্যবসায়ী সমাজ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে সংকট তৈরি হবে। এমন উদ্বেগ জানিয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ ২০২৬ সাল থেকে পিছিয়ে ২০৩২ সালে নির্ধারণের দাবি করে সরকারের কাছে সম্প্রতি চিঠি দেয় শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলো। ব্যবসায়ীদের এ উদ্বেগ জাতিসংঘকে জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে জাতিসংঘকে বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন মূল্যায়নের অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সামস্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রভাব বিশ্লেষণ এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নে তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এই মূল্যায়ন করা হবে। সফরকালে অংশীজনদের কাছ থেকেও নানা তথ্য সংগ্রহ করবে এ মিশন।

ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা মনে করছেন, এলডিসি থেকে বের হলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশের রফতানি খাতকে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধ শিল্পের ওপর মেধাস্বত্ব বিধিবিধান আরও কড়াকড়ি হবে। উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে রফতানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে।

Share this news as a Photo Card