ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অর্থনৈতিক কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বা সম্পত্তি বাজারে, যেখানে লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে, কিছু আবাসন এজেন্ট ইতোমধ্যে সম্পত্তির দাম কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সাথে, আবাসন খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই শেয়ারবাজারে ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
চলতি সপ্তাহে গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের প্রথম ১২ দিনে ইউএইর আবাসন খাতে লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। এটি ফেব্রুয়ারির একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশের পতন। এছাড়াও, কিছু সম্পত্তি বড় ছাড় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দেওয়া তথ্য এবং গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
দুবাইয়ের অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রিয়েল এস্টেট খাত দীর্ঘদিন ধরে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। তবে টানা পাঁচ বছর দাম বৃদ্ধির পর বাজারে মন্দার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সংঘাত এই খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। করমুক্ত নীতির কারণে ধনী অভিবাসীদের আগমন এতদিন চাহিদা ধরে রেখেছিল। তবে সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর ফলে বাড়ির ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনীহা বাড়তে পারে, যা বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
রিপোর্টারের নাম 





















