যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু হলেও, তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত দুই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে বিশ্বাস করে না। ফলে, ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইরান তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি বিষয়ক মধ্যস্থতা বৈঠকের সূত্র ধরে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগকালে তেহরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন। সূত্রমতে, ইরান এই দুই দূতকে অবিশ্বস্ত মনে করে এবং তাদের সঙ্গে পূর্ববর্তী সকল আলোচনাকে ‘গঠনমূলক নয়’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
ইরান ভবিষ্যতে যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিকল্প পথ অবলম্বনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা মনে করে, উত্তেজনা নিরসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রদর্শনের জন্য যে সকল ব্যক্তি তাদের কাছে অবিশ্বস্ত, তাদের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগের চেয়ে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগই অধিক ফলপ্রসূ হবে।
এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা বৃহত্তর তুরস্ক-মিশরীয় উদ্যোগের অংশ, যা সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমর্থনপুষ্ট। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সীমিত রাখা।
প্রস্তাবিত এই উদ্যোগে একটি তাৎক্ষণিক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই একটি নমনীয় আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে। এই আলোচনা ইস্তাম্বুল বা মাস্কাটের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, তেল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি সহ ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগকেই তুলে ধরেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















