ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইসরাইলের আয়রন ডোমকে ফাঁকি দিচ্ছে ইরানের ক্লাস্টার বোমা

ইসরাইলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এখন ইরানের ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমার সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানের উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর’, যা প্রায় ৮০টি উপ-বোমা বহন করতে সক্ষম, তা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের এই ক্লাস্টার বোমা ইসরাইলের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ এবং ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান অন্তত ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেডসহ ইসরাইলে নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় নয়জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এই ঘটনা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে প্রকাশ করেছে এবং ইরানের যুদ্ধ কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সর্বশেষ রোববার, ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মধ্য ইসরাইলে ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে, যেখানে ১৫ জন ইসরাইলি আহত হন। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে যে ইরান কর্তৃক নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত। প্রতিরক্ষা পরামর্শক ও ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ তাল ইনবার বলেন, সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ক্লাস্টার বোমা আটকানো প্রযুক্তিগতভাবে অনেক বেশি কঠিন। এটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে হলে, মূল ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরণ বা উপ-বোমা ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই ধ্বংস করতে হবে।

আয়রন ডোম সহ ইসরাইলের মাল্টি-টিয়ার প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক বিভিন্ন উচ্চতা ও গতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, ক্লাস্টার বোমা মাঝ আকাশে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেওয়ায় এটি ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বোমা থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে বায়ুমণ্ডলের বাইরেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা প্রয়োজন।

ক্লাস্টার বোমা প্রকৃতিগতভাবে নির্বিচারে ক্ষতি সাধন করে এবং জনাকীর্ণ এলাকায় এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে নিষিদ্ধ। যদিও ২০০৮ সালের ক্লাস্টার মিউনিশন কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য এটি নিষিদ্ধ, তবে ইসরাইল বা ইরান কেউই এই চুক্তির পক্ষে ছিল না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত জুন মাসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই ধরনের বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে পোপ লিও’র শান্তির বার্তা

ইসরাইলের আয়রন ডোমকে ফাঁকি দিচ্ছে ইরানের ক্লাস্টার বোমা

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ইসরাইলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এখন ইরানের ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমার সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানের উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর’, যা প্রায় ৮০টি উপ-বোমা বহন করতে সক্ষম, তা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের এই ক্লাস্টার বোমা ইসরাইলের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ এবং ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান অন্তত ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেডসহ ইসরাইলে নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় নয়জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এই ঘটনা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে প্রকাশ করেছে এবং ইরানের যুদ্ধ কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সর্বশেষ রোববার, ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মধ্য ইসরাইলে ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে, যেখানে ১৫ জন ইসরাইলি আহত হন। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে যে ইরান কর্তৃক নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত। প্রতিরক্ষা পরামর্শক ও ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ তাল ইনবার বলেন, সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ক্লাস্টার বোমা আটকানো প্রযুক্তিগতভাবে অনেক বেশি কঠিন। এটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে হলে, মূল ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরণ বা উপ-বোমা ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই ধ্বংস করতে হবে।

আয়রন ডোম সহ ইসরাইলের মাল্টি-টিয়ার প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক বিভিন্ন উচ্চতা ও গতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, ক্লাস্টার বোমা মাঝ আকাশে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেওয়ায় এটি ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বোমা থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে বায়ুমণ্ডলের বাইরেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা প্রয়োজন।

ক্লাস্টার বোমা প্রকৃতিগতভাবে নির্বিচারে ক্ষতি সাধন করে এবং জনাকীর্ণ এলাকায় এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে নিষিদ্ধ। যদিও ২০০৮ সালের ক্লাস্টার মিউনিশন কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য এটি নিষিদ্ধ, তবে ইসরাইল বা ইরান কেউই এই চুক্তির পক্ষে ছিল না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত জুন মাসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই ধরনের বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল।