বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সান্তাহার রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে আরও একটি উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে। দ্রুততম সময়ে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে।
এর আগে বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলোর কারণে উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলা – নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দিনাজপুরের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ঢাকা-রংপুর-লালমনিরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার স্থানে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল এবং সেখানে লাল পতাকা টানানো ছিল। কিন্তু চালকের অসাবধানতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের চালক ও অন্যান্য স্টাফরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার সময় ট্রেনের ছাদে থাকা এবং ভেতরে থাকা শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালসহ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, রেললাইনের কাজের স্থানে লাল পতাকা থাকা সত্ত্বেও চালক দ্রুতগতিতে আসায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, দুপুর সোয়া ২টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাদের চারটি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ পর্যন্ত ৪৭ জনকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























