ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ: তুরস্ক-মিশরের নেতৃত্বে সুন্নি জোটের নীরব অগ্রযাত্রা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নীরব অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইসরাইলের কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও মিশরের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নেতৃত্বে একটি নতুন সুন্নি জোট নীরবে সংগঠিত হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইসরাইলকে কেন্দ্র করে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে, তখন আড়ালে একটি সমান্তরাল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এই উদীয়মান জোটের কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি আঙ্কারার নেতৃত্বে সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এর মূল লক্ষ্য কেবল অতীতের মতবিরোধগুলো মিটিয়ে ফেলা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ও কৌশলগত বলয় তৈরি করা যা ইসরাইলকে ঘিরে আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে এরদোগানের সৌদি আরব ও মিশর সফর এবং এরপর আঙ্কারায় জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহকে আতিথ্য দেওয়াকে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২২ সালে শুরু হওয়া তুরস্ক ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ধারাবাহিকতারই অংশ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো তুরস্ক ও মিশরের মধ্যে সম্পর্কের নাটকীয় উন্নয়ন। ২০১৩ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় এক দশক ধরে শীতল সম্পর্ক বজায় থাকার পর, দুই দেশ এখন কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এরদোগানের কায়রো সফরে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি সামরিক কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

কৌশলগতভাবে দেখলে, সুয়েজ খালের ওপর মিশরের নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির কেন্দ্রীয় ভূমিকা এই উদীয়মান সুন্নি জোটকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এর ফলে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোর ওপর আঞ্চলিক লজিস্টিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এই পরিবর্তনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে একক শক্তি হিসেবে ইসরাইলের প্রভাব আর আগের মতো প্রশ্নাতীত নেই। তুরস্ক ও মিশরের নেতৃত্বে সুন্নি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সমন্বয় অঞ্চলটিতে ক্ষমতার এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে, যা ইসরাইলকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশলগত বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ: তুরস্ক-মিশরের নেতৃত্বে সুন্নি জোটের নীরব অগ্রযাত্রা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নীরব অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইসরাইলের কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও মিশরের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নেতৃত্বে একটি নতুন সুন্নি জোট নীরবে সংগঠিত হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইসরাইলকে কেন্দ্র করে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে, তখন আড়ালে একটি সমান্তরাল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এই উদীয়মান জোটের কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি আঙ্কারার নেতৃত্বে সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এর মূল লক্ষ্য কেবল অতীতের মতবিরোধগুলো মিটিয়ে ফেলা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ও কৌশলগত বলয় তৈরি করা যা ইসরাইলকে ঘিরে আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে এরদোগানের সৌদি আরব ও মিশর সফর এবং এরপর আঙ্কারায় জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহকে আতিথ্য দেওয়াকে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২২ সালে শুরু হওয়া তুরস্ক ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ধারাবাহিকতারই অংশ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো তুরস্ক ও মিশরের মধ্যে সম্পর্কের নাটকীয় উন্নয়ন। ২০১৩ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় এক দশক ধরে শীতল সম্পর্ক বজায় থাকার পর, দুই দেশ এখন কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এরদোগানের কায়রো সফরে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি সামরিক কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

কৌশলগতভাবে দেখলে, সুয়েজ খালের ওপর মিশরের নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির কেন্দ্রীয় ভূমিকা এই উদীয়মান সুন্নি জোটকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এর ফলে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোর ওপর আঞ্চলিক লজিস্টিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এই পরিবর্তনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে একক শক্তি হিসেবে ইসরাইলের প্রভাব আর আগের মতো প্রশ্নাতীত নেই। তুরস্ক ও মিশরের নেতৃত্বে সুন্নি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সমন্বয় অঞ্চলটিতে ক্ষমতার এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে, যা ইসরাইলকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশলগত বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।