ফুটবল বিশ্বে ‘সুপার সাব’ তকমাটা অনেকে সাময়িকভাবে পেলেও বেনিয়ামিন সেসকোর ক্ষেত্রে এটি যেন এক অমোঘ সত্যে পরিণত হয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্লোভেনীয় ফরোয়ার্ড আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে দলের ‘ত্রাতা’ বলা হয়। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলাটাই যেন এখন তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সোমবার রাতে এভারটনের মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষের মাঠে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন সেসকো। বদলি হিসেবে নামার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায়, ম্যাচের ৭১ মিনিটে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন তিনি। এই কষ্টার্জিত জয়ে কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে উঠে এসেছে রেড ডেভিলরা।
গত ১৩ জানুয়ারি রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর ক্লাবের দায়িত্ব নেন সাবেক তারকা মাইকেল ক্যারিক। তার কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত টানা ছয় ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে ম্যানচেস্টারের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। এই সফল যাত্রায় সেসকোর ভূমিকা অনন্য। শেষ চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই বদলি হিসেবে নেমে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন ২২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
এভারটনের বিপক্ষে গোলটি ছিল দৃষ্টিনন্দন এক পাল্টা আক্রমণের ফসল। নিজেদের অর্ধে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়ে এক লম্বা আড়াআড়ি শট নেন ইউনাইটেড ডিফেন্ডার। মাঝমাঠ পেরিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ব্রায়ান এমবুমো। তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল বাড়িয়ে দেন ক্ষিপ্রগতিতে বক্সে ঢোকা সেসকোর দিকে। বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে লিগে নিজের সপ্তম গোলটি উদযাপন করেন এই তরুণ তুর্কি।
ম্যাচ শেষে শিষ্যের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ ক্যারিক। তিনি বলেন, “এটি ছিল এক অসাধারণ ফিনিশিং। তার আত্মবিশ্বাস আমাকে মুগ্ধ করেছে। পুরো আক্রমণটিই ছিল পরিকল্পনা মাফিক এবং এমবুমোর পাসটিও ছিল চমৎকার। পাল্টা আক্রমণে আমরা এখন যেকোনো দলের জন্যই বিপজ্জনক।”
নিজের এই দারুণ ফর্ম নিয়ে সেসকো জানান, নিজের সক্ষমতার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তিনি বলেন, “সতীর্থরা আমার ওপর ভরসা রাখে এবং তারা জানে আমি মাঠে নামলে কী করতে পারি। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে আমি আনন্দিত।”
এই জয়ের ফলে ২৭ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে চেলসি ও লিভারপুলের সংগ্রহ ৪৫ পয়েন্ট। বর্তমানে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে এক ম্যাচ বেশি খেলা আর্সেনাল। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটি ৫৬ এবং অ্যাস্টন ভিলা ৫১ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























