ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভিটেমাটি হারানোর পর এবার ভোটাধিকারও নেই: আসামে চরম অনিশ্চয়তায় হাজারো বাঙালি পরিবার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের আসাম রাজ্যে ঘরবাড়ি হারানোর ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন সংকটে পড়েছেন কয়েক হাজার বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম। উচ্ছেদ অভিযানের কবলে পড়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পর এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে তাদের নাম। ভিটেমাটি আর নাগরিক অধিকার—উভয়ই হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর।

আসামের ধুবড়ি জেলার চিরাকুঠা গ্রামের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি বোদিয়াত জামাল। গত সাত মাস ধরে নিজের বসতভিটার ধ্বংসস্তূপের ওপর ত্রিপল টাঙিয়ে সপরিবারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। গত বছরের জুলাই মাসে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের দোহাই দিয়ে তার বাড়িসহ প্রায় ১৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় রাজ্য সরকার। উচ্ছেদের পর অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেও ভিটের মায়ায় সেখানেই পড়ে আছেন জামাল।

তবে জামালের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে গত সপ্তাহে। ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, জামাল ও তার পরিবারের নাম বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসা জামালের কাছে এটি বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো। তিনি আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই রাজ্যের নাগরিক হিসেবে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, অথচ এখন তাকে রাষ্ট্রহীন করার প্রক্রিয়া চলছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় জামালের নাগরিক পরিচয় এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া কর্মসংস্থান কিংবা কোথাও যাতায়াত করাও এখন তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু জামাল নন, তার মতো শত শত পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে আইনগত পরিচয়ের সংকট—সব মিলিয়ে আসামের এই প্রান্তিক মানুষগুলো এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে দারিদ্র্যের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে: জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভিটেমাটি হারানোর পর এবার ভোটাধিকারও নেই: আসামে চরম অনিশ্চয়তায় হাজারো বাঙালি পরিবার

আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যে ঘরবাড়ি হারানোর ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন সংকটে পড়েছেন কয়েক হাজার বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম। উচ্ছেদ অভিযানের কবলে পড়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পর এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে তাদের নাম। ভিটেমাটি আর নাগরিক অধিকার—উভয়ই হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর।

আসামের ধুবড়ি জেলার চিরাকুঠা গ্রামের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি বোদিয়াত জামাল। গত সাত মাস ধরে নিজের বসতভিটার ধ্বংসস্তূপের ওপর ত্রিপল টাঙিয়ে সপরিবারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। গত বছরের জুলাই মাসে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের দোহাই দিয়ে তার বাড়িসহ প্রায় ১৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় রাজ্য সরকার। উচ্ছেদের পর অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেও ভিটের মায়ায় সেখানেই পড়ে আছেন জামাল।

তবে জামালের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে গত সপ্তাহে। ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, জামাল ও তার পরিবারের নাম বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসা জামালের কাছে এটি বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো। তিনি আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই রাজ্যের নাগরিক হিসেবে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, অথচ এখন তাকে রাষ্ট্রহীন করার প্রক্রিয়া চলছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় জামালের নাগরিক পরিচয় এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া কর্মসংস্থান কিংবা কোথাও যাতায়াত করাও এখন তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু জামাল নন, তার মতো শত শত পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে আইনগত পরিচয়ের সংকট—সব মিলিয়ে আসামের এই প্রান্তিক মানুষগুলো এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।