ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি তালেবানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে চালানো এই আকস্মিক হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের বিপরীতে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আফগান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলাকে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কাবুল স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই হামলার যথাযথ জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। তবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ কখন এবং কীভাবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তালেবান প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, এই হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তান নতুন করে হামলা চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করেই এই ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা সূক্ষ্ম হামলা চালানো হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পাকিস্তানি বিমানবাহিনী মূলত বেসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত এক ডজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর জন্য আফগানিস্তানের মাটিকে দায়ী করে আসছে ইসলামাবাদ। সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই এই নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা ঘটল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে দারিদ্র্যের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে: জাতিসংঘের উদ্বেগ

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি তালেবানের

আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে চালানো এই আকস্মিক হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের বিপরীতে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আফগান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলাকে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কাবুল স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই হামলার যথাযথ জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। তবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ কখন এবং কীভাবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তালেবান প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, এই হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তান নতুন করে হামলা চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করেই এই ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা সূক্ষ্ম হামলা চালানো হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পাকিস্তানি বিমানবাহিনী মূলত বেসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত এক ডজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর জন্য আফগানিস্তানের মাটিকে দায়ী করে আসছে ইসলামাবাদ। সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই এই নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা ঘটল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।