ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী নতুন স্তরে ‘জুলাই বিপ্লব’, তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘জুলাই বিপ্লব’ কোনো সাময়িক আন্দোলন নয় এবং এটি নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। বরং গণহত্যার বিচার, ফ্যাসিবাদ বিলোপ ও নতুন সংবিধানের দাবিতে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আরও তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে বিএনপি কিংবা জামায়াতের জমিদারি কায়েম হবে না। বরং ২০২৪ সালের বিপ্লব ২০২৬ সালে নতুন স্তরে প্রবেশ করবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ফ্যাসিবাদী দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবিতে নতুন করে গণ-আন্দোলন গড়ে উঠবে।

খোমেনী ইহসান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সূত্রপাত কোটা বৈষম্য থেকে হলেও, এই বৈষম্য স্বাধীনতার পর থেকেই চলে আসছিল। তার অভিযোগ, একমাত্র শেখ হাসিনাই কোটা প্রথা বাতিল করেছিলেন, কিন্তু তৃতীয় দফায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দম্ভে কোটা প্রথা পুনর্বহাল করে তিনি ‘গণহত্যা ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন’।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে খোমেনী ইহসান অভিযোগ করেন যে, এই সরকার প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ নয় এবং রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদী আমলাতন্ত্রের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিচারে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বর্তমান বাস্তবতায় ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অলিখিত শরিক বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির ক্ষমতা দখলের নির্বাচন ‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারবে না। বরং যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রেখে দেশে জমিদারি কায়েমের চেষ্টা করবে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, ‘জুলাই বিপ্লবী’ ছাত্রজনতা নির্বাচনের পর গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ডা. জহিরুল ইসলাম, সদস্য সাকিব সামিন, সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান এবং সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

নির্বাচন পরবর্তী নতুন স্তরে ‘জুলাই বিপ্লব’, তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘জুলাই বিপ্লব’ কোনো সাময়িক আন্দোলন নয় এবং এটি নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। বরং গণহত্যার বিচার, ফ্যাসিবাদ বিলোপ ও নতুন সংবিধানের দাবিতে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আরও তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে বিএনপি কিংবা জামায়াতের জমিদারি কায়েম হবে না। বরং ২০২৪ সালের বিপ্লব ২০২৬ সালে নতুন স্তরে প্রবেশ করবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ফ্যাসিবাদী দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবিতে নতুন করে গণ-আন্দোলন গড়ে উঠবে।

খোমেনী ইহসান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সূত্রপাত কোটা বৈষম্য থেকে হলেও, এই বৈষম্য স্বাধীনতার পর থেকেই চলে আসছিল। তার অভিযোগ, একমাত্র শেখ হাসিনাই কোটা প্রথা বাতিল করেছিলেন, কিন্তু তৃতীয় দফায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দম্ভে কোটা প্রথা পুনর্বহাল করে তিনি ‘গণহত্যা ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন’।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে খোমেনী ইহসান অভিযোগ করেন যে, এই সরকার প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ নয় এবং রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদী আমলাতন্ত্রের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিচারে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বর্তমান বাস্তবতায় ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অলিখিত শরিক বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির ক্ষমতা দখলের নির্বাচন ‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারবে না। বরং যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রেখে দেশে জমিদারি কায়েমের চেষ্টা করবে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, ‘জুলাই বিপ্লবী’ ছাত্রজনতা নির্বাচনের পর গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ডা. জহিরুল ইসলাম, সদস্য সাকিব সামিন, সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান এবং সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান।