ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় চরম বিশৃঙ্খলা ও হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয়বারের মতো ফেনীতে আয়োজিত এই জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে মঞ্চে বিশৃঙ্খলার কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং ক্ষণিকের জন্য বক্তৃতা বন্ধ করে দেন। তাঁর এই বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ পায় বক্তৃতার মধ্য দিয়ে, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েও তাঁর চেহারায় স্পষ্ট ছিল।
জনসভার মঞ্চের বাইরেও একই রকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চের পাশে অপেক্ষমাণ বিগত ১৬ বছর ধরে গুম ও খুনের শিকার হওয়া এবং ২০২৪ সালের এক দফা আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সাথে সাক্ষাতের সময় নেতাকর্মীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে তারা তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে যায়, ফলে বিজিবি, পুলিশ ও সিএসএফ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত গাড়িতে তুলে দেন।
এর আগে, তারেক রহমান যখন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন একদল নেতাকর্মী নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মঞ্চের দিকে ছুটে আসেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন মঞ্চেও উঠে পড়েন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল একজনকে গলা চেপে ধরে মঞ্চ থেকে ফেলে দেন। মঞ্চে থাকা অন্য নেতারাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খান।
জনসভার মঞ্চ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি তিন জেলার নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হুড়োহুড়ি এবং সামনে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় সভার শুরু থেকেই পুরো শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার পর সামনে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। বক্তৃতার ক্ষেত্রেও প্রটোকল মানা হয়নি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নাল আবদিন, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার পরে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। এতে নেতাদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকরাও ক্ষোভ জানান। এই সবকিছুর ফলে অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফেনীর সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। জনসভাস্থল থেকে অনেকের মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরি হয়ে যায়।
জনসভার মঞ্চসহ পুরো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের চুক্তি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত সোহেলকে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে অনেকে মনে করছেন, জনসভা নিয়ে এক ধরনের নাশকতার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে ১৫ সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হলেও বিএনপির কোনো নেতা আহতদের খোঁজ নেননি। তবে আহত কয়েকজন নেতাকর্মীকে মঞ্চের অদূরে মসজিদের ভেতর শুইয়ে রাখতে দেখা গেছে।
ধস্তাধস্তি ও চেয়ার ছোড়াছুরির কারণে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের বার্তা শোনা হয়নি। তাদের সাথে মাত্র কয়েক সেকেন্ড কথা বলেই তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এছাড়া, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর ফেনী জেলার সভাপতি শায়খুল হাদিস হাফেজ মাওলানা মুফতি তাহের সাইদকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি মঞ্চে উঠতে পারেননি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল। তিনি বলেন, পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন বলেন, অতি আবেগের কারণে কর্মীরা নেতাকে কাছ থেকে দেখার জন্য মঞ্চের দিকে ছুটে আসেন। বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রটোকল না মানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বড় শো-ডাউনের কারণে ভঙ্গ হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, বড় জনসভা হওয়ায় নেতাকর্মীরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন ছিল। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে রফিকুল আলম মজনুর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 





















