ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের প্রার্থী নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ, ‘যাকে চিনি না, তাকে ভোট দেব কেন?’

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১০ দলীয় জোট কর্তৃক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসেরকে ঘিরে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচিতি এবং তার জনপ্রিয়তা জোটের এই সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

সোমবার বোয়ালখালীর ফুলতলায় এক গণসংযোগকালে এই অসন্তোষ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ মো. ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, তাঁর মন্তব্যে জনগণের মনোভাব প্রতিফলিত হয়। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া যখন কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন, তখন রুবি আক্তারের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

শান্ত অথচ গভীর আক্ষেপের সঙ্গে রুবি আক্তার বলেন, “স্থানীয় মানুষ স্থানীয় প্রার্থীকেই ভোট দিতে চায়। যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাকে তো এলাকার কেউ চেনে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এই এলাকার জন্য সবসময় ছিলাম, জুলাইকে কখনো বিক্রি করিনি বা কোনো সুবিধা নিইনি। এই আসনটি যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা এলাকার জন্য বড় ক্ষতি হবে।”

রুবি আক্তারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, “আমরা ১০ দলীয় জোট। সবাই মিলে কাজ করলে এই আসন ধরে রাখা সম্ভব।”

কিন্তু রুবি আক্তার তাঁর যুক্তিতে অটল থাকেন। তিনি বলেন, “জোট ঠিক আছে, কিন্তু এখানে স্থানীয় ভোটই প্রধান। জোটের ভোট ২০ শতাংশ হলে স্থানীয় ভোট ৮০ শতাংশ। যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাকে তো কেউ চেনে না।”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভই নয়, বরং এলাকার নির্বাচনী সমীকরণও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আসিফ মাহমুদ যখন বলেন যে তারা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন, তখন রুবি আক্তার সরাসরি প্রস্তাব দেন, “তাহলে আমি বলি, এই আসনটি উন্মুক্ত রাখা হোক। এনসিপিও লড়বে, জামায়াতের আবু নাসের ভাইও লড়বেন।” তাঁর এই প্রস্তাব স্থানীয় জনগণের একাংশের মনোভাবকেই প্রকাশ করে, যারা পরিচিত ও স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডনের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার, ‘আওয়ামীকরণের’ অভিযোগ উপদেষ্টার

চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের প্রার্থী নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ, ‘যাকে চিনি না, তাকে ভোট দেব কেন?’

আপডেট সময় : ০৪:৫২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১০ দলীয় জোট কর্তৃক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসেরকে ঘিরে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচিতি এবং তার জনপ্রিয়তা জোটের এই সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

সোমবার বোয়ালখালীর ফুলতলায় এক গণসংযোগকালে এই অসন্তোষ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ মো. ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, তাঁর মন্তব্যে জনগণের মনোভাব প্রতিফলিত হয়। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া যখন কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন, তখন রুবি আক্তারের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

শান্ত অথচ গভীর আক্ষেপের সঙ্গে রুবি আক্তার বলেন, “স্থানীয় মানুষ স্থানীয় প্রার্থীকেই ভোট দিতে চায়। যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাকে তো এলাকার কেউ চেনে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এই এলাকার জন্য সবসময় ছিলাম, জুলাইকে কখনো বিক্রি করিনি বা কোনো সুবিধা নিইনি। এই আসনটি যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা এলাকার জন্য বড় ক্ষতি হবে।”

রুবি আক্তারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, “আমরা ১০ দলীয় জোট। সবাই মিলে কাজ করলে এই আসন ধরে রাখা সম্ভব।”

কিন্তু রুবি আক্তার তাঁর যুক্তিতে অটল থাকেন। তিনি বলেন, “জোট ঠিক আছে, কিন্তু এখানে স্থানীয় ভোটই প্রধান। জোটের ভোট ২০ শতাংশ হলে স্থানীয় ভোট ৮০ শতাংশ। যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাকে তো কেউ চেনে না।”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভই নয়, বরং এলাকার নির্বাচনী সমীকরণও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আসিফ মাহমুদ যখন বলেন যে তারা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন, তখন রুবি আক্তার সরাসরি প্রস্তাব দেন, “তাহলে আমি বলি, এই আসনটি উন্মুক্ত রাখা হোক। এনসিপিও লড়বে, জামায়াতের আবু নাসের ভাইও লড়বেন।” তাঁর এই প্রস্তাব স্থানীয় জনগণের একাংশের মনোভাবকেই প্রকাশ করে, যারা পরিচিত ও স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে।