আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের প্রচারাভিযানে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আসনে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুফিয়ান রায়হান। তিনি এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সুফিয়ান রায়হান চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়ক মামুন মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিভিন্ন আসনে অ্যাম্বাসেডরদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত অ্যাম্বাসেডরদের মূল দায়িত্ব হবে নিজ নিজ আসনে গণভোটের প্রচার চালানো এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য সাংগঠনিকভাবে কাজ করা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে গণভোটের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সুফিয়ান রায়হানকে মনোনীত করা হয়েছে।
নতুন এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে এগারো দলীয় জোট ‘ঐকবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মামুন মজুমদার বলেন, “বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অপরিহার্য। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো ‘হ্যাঁ’ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন, ন্যায়বিচারের বিজয় এবং গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ। নতুন বাংলাদেশের পক্ষে, জনগণের ক্ষমতার পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, ‘না’-তে ফ্যাসিবাদ, ‘হ্যাঁ’-তে জনগণ।”
গণভোটের অ্যাম্বাসেডর মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সুফিয়ান রায়হান বলেন, “কুমিল্লা-১১ আসনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে মানুষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের জীবনও উৎসর্গ করেছে। এমন একটি আসনে আমাকে গণভোটের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করায় আমি আমার দলের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি এখানকার প্রতিটি অলিগলি চিনি। আমি বিশ্বাস করি, চৌদ্দগ্রামে জুলাইয়ের আদর্শের একজন জনপ্রতিনিধিই সংসদে নির্বাচিত হবেন। গণভোটের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমি এলাকার মানুষের দোয়া, সমর্থন এবং ভালোবাসা পাচ্ছি। চৌদ্দগ্রামের সচেতন মানুষ আমার সঙ্গে আছে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বর্ডার দখল বা বাজার দখলের রাজনীতি চৌদ্দগ্রামে আর চলবে না। মাঝরাতে মানুষের ঘুম নষ্ট করে মাইক বাজিয়ে ‘না’ ভোটের যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সফল হবে না। দিন শেষে চৌদ্দগ্রামে ‘হ্যাঁ’ ভোটই জয়যুক্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
রিপোর্টারের নাম 






















