ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার প্রধান আসামি প্রকাশ্যেই সক্রিয়: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

র‍্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. ইয়াসিন, যিনি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত, প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে যেমন এই ঘটনায় বিস্ময় দেখা দিয়েছে, তেমনি ইয়াসিনকে কারা সুরক্ষা দিচ্ছে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে আলীনগরে নিজের পুরোনো কার্যালয়ে ‘কথিত সংবাদ সম্মেলন’ ডেকে ইয়াসিন সরাসরি র‍্যাব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, তার এলাকায় প্রশাসনকে প্রবেশ করতে হলে আগে তাকে জানাতে হবে এবং কোনো হয়রানি হলে প্রশাসনকেই এর দায় নিতে হবে। একটি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খোঁজে থাকা ব্যক্তির এমন প্রকাশ্য ঔদ্ধত্য কেবল স্থানীয়দের নয়, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও বিস্মিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসিন অভিযোগ তোলেন, র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার নেপথ্যে তার প্রতিপক্ষ রোকন উদ্দিন মেম্বার জড়িত। তিনি রোকনের ‘রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন। ইয়াসিন আরও দাবি করেন, রোকন যা করছেন, সবই আসলাম চৌধুরীর প্রভাবে। তিনি আসলাম চৌধুরীর ১৭০০ কোটি টাকা ঋণের প্রসঙ্গ টেনে তার ৪৫০ কোটি টাকার সম্পদ এবং বাকি সাড়ে বারোশো কোটি টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সুরক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন র‍্যাব কর্মকর্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি যদি প্রকাশ্যে মিছিল, শোডাউন বা সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেন, তাহলে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট মামলার ব্যর্থতা নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতার নগ্ন চিত্র। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারত। কিন্তু যখন কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ছায়া, স্থানীয় প্রভাব অথবা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগে শক্ত অবস্থান তৈরি করে, তখন তাকে গ্রেপ্তারের সদিচ্ছাটাই হারিয়ে যায়। বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, এ ধরনের আসামির প্রকাশ্যে দাপট দেখানো দুটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: প্রথমত, সে আইনকে ভয় করছে না; দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর তার প্রভাব বা সুরক্ষা রয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা, কারণ এতে সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা জন্মায় যে, সন্ত্রাসী বা খুনির চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে তাদের পেছনে থাকা অদৃশ্য শক্তিগুলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দখল নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ

র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার প্রধান আসামি প্রকাশ্যেই সক্রিয়: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

র‍্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. ইয়াসিন, যিনি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত, প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে যেমন এই ঘটনায় বিস্ময় দেখা দিয়েছে, তেমনি ইয়াসিনকে কারা সুরক্ষা দিচ্ছে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে আলীনগরে নিজের পুরোনো কার্যালয়ে ‘কথিত সংবাদ সম্মেলন’ ডেকে ইয়াসিন সরাসরি র‍্যাব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, তার এলাকায় প্রশাসনকে প্রবেশ করতে হলে আগে তাকে জানাতে হবে এবং কোনো হয়রানি হলে প্রশাসনকেই এর দায় নিতে হবে। একটি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খোঁজে থাকা ব্যক্তির এমন প্রকাশ্য ঔদ্ধত্য কেবল স্থানীয়দের নয়, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও বিস্মিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসিন অভিযোগ তোলেন, র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার নেপথ্যে তার প্রতিপক্ষ রোকন উদ্দিন মেম্বার জড়িত। তিনি রোকনের ‘রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন। ইয়াসিন আরও দাবি করেন, রোকন যা করছেন, সবই আসলাম চৌধুরীর প্রভাবে। তিনি আসলাম চৌধুরীর ১৭০০ কোটি টাকা ঋণের প্রসঙ্গ টেনে তার ৪৫০ কোটি টাকার সম্পদ এবং বাকি সাড়ে বারোশো কোটি টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সুরক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন র‍্যাব কর্মকর্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি যদি প্রকাশ্যে মিছিল, শোডাউন বা সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেন, তাহলে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট মামলার ব্যর্থতা নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতার নগ্ন চিত্র। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারত। কিন্তু যখন কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ছায়া, স্থানীয় প্রভাব অথবা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগে শক্ত অবস্থান তৈরি করে, তখন তাকে গ্রেপ্তারের সদিচ্ছাটাই হারিয়ে যায়। বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, এ ধরনের আসামির প্রকাশ্যে দাপট দেখানো দুটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: প্রথমত, সে আইনকে ভয় করছে না; দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর তার প্রভাব বা সুরক্ষা রয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা, কারণ এতে সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা জন্মায় যে, সন্ত্রাসী বা খুনির চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে তাদের পেছনে থাকা অদৃশ্য শক্তিগুলো।