রংপুরের বদরগঞ্জে সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মণ্ডল। গত শনিবার বিকেলে বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় এই কবর জিয়ারত করেন তিনি। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া ও মনসুর আলী অভিযোগ করে বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করেছে, জাতীয় পার্টি সে সময় তাদের সমর্থন জুগিয়েছিল। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ভোটের আশায় আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন কর্মী সুমন ও ইমতিয়াজ ইমতি জাতীয় পার্টির সব কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা হাসান মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার আশায় জাপার প্রার্থী তাদের নেতার কবর জিয়ারত করেছেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, স্বৈরাচারের দোসরদের জনগণ ভোট দেবে না।
এনসিপি নেতা রমজান আলী ও ফাইজুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের এত অপরাধ সম্পর্কে অবগত থাকার পরও জাতীয় পার্টি তাদের সমর্থন করছে এবং তাদের ভোটের আশা করছে। এ কারণে জাতীয় পার্টিকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে এর নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াত নেতা গোলজার হোসেনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ যেমন কখনো ভালো ছিল না, জাতীয় পার্টিও কখনো ভালো হবে না। তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারতের বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মণ্ডলের দেহরক্ষী নজরুল ইসলাম জানান, গত শনিবার বিকেলে আনিসুল ইসলাম মণ্ডল কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হকের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। কবর জিয়ারতের পর তারা ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে ভোট চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কবর জিয়ারত করা কোনো দোষের বিষয় নয়।
রিপোর্টারের নাম 




















