বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের কোনো নির্দিষ্ট প্রধান নেতা ছিল না; বরং এদেশের আপামর সাধারণ জনতাই ছিল এই পরিবর্তনের প্রকৃত রূপকার ও নেতা। দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, গুম, খুন ও নিপীড়নের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতেই এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মুখে ফ্যাসিবাদী শক্তি খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে।
শনিবার পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় তার হারানো স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা ফিরে পেয়েছে। আজ দেশপ্রেমিক জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এই ঐক্যের জোয়ারে আগামী দিনেও সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এই ঐক্যের মূল ভিত্তি হলো দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। বাংলাদেশকে দুর্বৃত্তায়ন, গুন্ডামি এবং চাঁদাবাজিমুক্ত একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কেবল অপরাজনীতি, লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে দেশ তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে মামুনুল হক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষের আত্মত্যাগ আর হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে নসাৎ করতে পরাজিত শক্তিগুলো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ এখন সচেতন। যে লক্ষ্য নিয়ে মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, সেই বিপ্লবকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। দেশপ্রেমিক জনতাকে সাথে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 




















