এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট দলের চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি, তাদের গত দুই বছরের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ছাগলনাইয়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আটজন কর্মীকে আহত করা হয়েছে এবং নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে, তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে তরুণ প্রজন্ম এসব অপশক্তির হুমকিতে ভীত নয়; বরং একজন কর্মী আহত হলে বা নিহত হলে আরও দশজন তাদের স্থান পূরণ করতে এগিয়ে আসবে। তিনি বলেন, জনগণ যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভয় পায়নি, তেমনি এই অপশক্তির কাউকেও ভয় পাবে না। এছাড়াও, ফেনীর বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর সংশয় তৈরি করেছে।
শনিবার ফেনীতে ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ফেনীর নির্বাচনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা বলপ্রয়োগের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। যদি এমন কোনো চেষ্টা করা হয়, তবে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্দোলনও জোরদার করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে দেশে বর্তমানে এক ধরনের প্রতারণামূলক রাজনীতি চলছে এবং এই ভাওতাবাজির অবসান ঘটাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়া হলেও খুনিদের পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। হাদির মতো হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অনেক দলকে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। এখন দেশের সংস্কার প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে এক ধরনের ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। দেশে এই ধরনের খারাপ চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, তারা পূর্বের ঐকমত্য কমিশনে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারে নানা প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পথে একটি মহল কৃত্রিমভাবে আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে তারা শুরু থেকেই সরব ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতসহ হাসিনা বিরোধী সকল দল স্বৈরাচারের পতনের জন্য রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের পতনের পর দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অনেককেই হতাশ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দেশে শান্তি ফিরে আসবে, যদিও বর্তমানে সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না।
মতবিনিময় সভায় এবি পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য লিয়াকত আলী ভুঞা, সামছুদ্দিন ভুঞা, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নান, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, জেলা সংগঠক সুজা উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুজাফফর আহমদ জাফরী, জেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আনম আবদুর রহিমসহ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 




















