ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

“দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত, তবে এক ইঞ্চি জমিও বন্ধক নয়” – জামায়াত আমির

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগী বীরদের স্মরণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “শহীদ আবু সাঈদের মতো আমরাও দেশের জন্য বুক পেতে দিতে প্রস্তুত, কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মানও কারো কাছে বন্ধক রাখব না।” শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে শহীদ আবু সাঈদসহ ‘জুলাই বিপ্লবে’ নিহত সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তে অর্জিত আমানত রক্ষা করতে আমরা জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করব।”

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সিগবাতুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জামায়াত আমির শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে বলেন, “তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়েছিলেন, আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

তিনি বলেন, “২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি কিংবা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াইনি। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি। আমাদের নিজস্ব কোনো গোপন এজেন্ডা নেই।”

জুলাই পরবর্তী সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, “আমরা জাতিকে বিভক্ত হতে দেব না। এই বিভক্তির অবসান ঘটাতেই ১০ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দেশের ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।” এ সময় তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা নুরুল আমিনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জীবন যাবে, তবুও মাথা নত করব না। শহীদ আবু সাঈদরা যেভাবে দেশের জন্য বুক চিতিয়ে দিয়েছিল, আমরাও সেভাবেই প্রস্তুত।” তিনি অবিলম্বে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারকে সারাজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে কবর জিয়ারতের সময় শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেনকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ন্যায়বিচার ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দখল নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ

“দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত, তবে এক ইঞ্চি জমিও বন্ধক নয়” – জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগী বীরদের স্মরণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “শহীদ আবু সাঈদের মতো আমরাও দেশের জন্য বুক পেতে দিতে প্রস্তুত, কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মানও কারো কাছে বন্ধক রাখব না।” শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে শহীদ আবু সাঈদসহ ‘জুলাই বিপ্লবে’ নিহত সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তে অর্জিত আমানত রক্ষা করতে আমরা জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করব।”

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সিগবাতুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জামায়াত আমির শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে বলেন, “তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়েছিলেন, আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

তিনি বলেন, “২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি কিংবা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াইনি। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি। আমাদের নিজস্ব কোনো গোপন এজেন্ডা নেই।”

জুলাই পরবর্তী সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, “আমরা জাতিকে বিভক্ত হতে দেব না। এই বিভক্তির অবসান ঘটাতেই ১০ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দেশের ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।” এ সময় তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা নুরুল আমিনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জীবন যাবে, তবুও মাথা নত করব না। শহীদ আবু সাঈদরা যেভাবে দেশের জন্য বুক চিতিয়ে দিয়েছিল, আমরাও সেভাবেই প্রস্তুত।” তিনি অবিলম্বে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারকে সারাজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে কবর জিয়ারতের সময় শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেনকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ন্যায়বিচার ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।