আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামায় সম্পদ ও শিক্ষার এক বিচিত্র চিত্র উঠে এসেছে। এই আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আর্থিক সক্ষমতায় সবার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ, আর শিক্ষাগত যোগ্যতায় অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থীই যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির আব্দুল আজিজ, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, ইসলামী আন্দোলনের এমদাদুল্লাহ, জাতীয় পার্টির ইউসুফ আহমেদ এবং এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিন।
আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ পেশায় একজন কৃষক। এর আগে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। হলফনামার তথ্যমতে, তার মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৩১৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ ২০ লাখ ৫৪৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ও সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯২ টাকা রয়েছে। এছাড়া উপহার হিসেবে পাওয়া ২০ ভরি স্বর্ণ এবং আট কক্ষবিশিষ্ট একটি বাড়ির মালিক তিনি। তবে তার কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। আব্দুল আজিজের স্ত্রীর নামেও ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা তিনটি মামলার মধ্যে একটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং বাকি দুটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতায় সবার শীর্ষে থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম কামিল পাসসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশায় অধ্যাপক এই প্রার্থী এর আগে দুইবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং একবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে প্রার্থীদের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম, যার মোট মূল্য ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯ টাকা। তার কোনো কৃষিজমি বা নিজস্ব বাড়ি নেই; পৈতৃক বাড়িতে যৌথ পরিবারে বসবাস করেন তিনি। তবে বাড়ি না থাকলেও যাতায়াতের জন্য তার একটি নিজস্ব মাইক্রোবাস রয়েছে। তার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা থাকলেও তিনি সেখান থেকে খালাস পেয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এমদাদুল্লাহ পেশায় একজন শিক্ষক এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দাওরায়ে হাদিস। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা, যার মধ্যে নগদ ১০ লাখ টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। শিক্ষকতা ও বাড়ি ভাড়া থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজার টাকা।
এবি পার্টির প্রার্থী মোকছেদুল মোমিন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং পেশায় একজন চাকরিজীবী। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৭ টাকা। তার একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণ থাকলেও কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইউসুফ আহমেদ পেশায় ব্যবসায়ী। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি সবার নিচে, অষ্টম শ্রেণি পাস। তবে তার সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। তার ৩০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ১৫ লাখ ৬ হাজার ৮২ টাকা রয়েছে। মৎস্য ও কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বসবাসের জন্য ১৩ শতাংশ জমির ওপর তার একটি পাকা ভবন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















