ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ বন্ধ: দুই উপজেলার লাখো মানুষের স্বপ্ন এখন ‘গলার কাঁটা’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদের বদলে বিষাদে পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় এবং বর্তমানে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাসনগর বাজার সংলগ্ন সোমেশ্বরী নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রায় ২৭ কোটি ৩১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেবল পিলারের কাজটুকুই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রহস্যজনক কারণে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর কাজ থমকে থাকায় দুই তীরের বাসিন্দাদের আগের মতোই চরম দুর্ভোগ সয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। অথচ এই সেতুর আশায় বুক বেঁধে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট ভেঙে দিয়েছেন, অনেকে বসতবাড়ি কিংবা ফসলি জমিও ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর পার হলেও সেতুর সুফল না পাওয়ায় এবং জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না মেলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করার কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা। স্থানীয় বাসিন্দা আনিস মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “সেতু হলে এলাকার উন্নয়ন হবে ভেবে আমরা নিজ উদ্যোগে জমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন দেখি সেতুও হলো না, আবার জমিও গেল। আমরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।”

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের শুরুতে কিছু কারিগরি ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত পুনরায় কাজ শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, যথাযথ হাইড্রোলজি জরিপ ও নকশা মেনেই সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ

সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ বন্ধ: দুই উপজেলার লাখো মানুষের স্বপ্ন এখন ‘গলার কাঁটা’

আপডেট সময় : ১১:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদের বদলে বিষাদে পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় এবং বর্তমানে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাসনগর বাজার সংলগ্ন সোমেশ্বরী নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রায় ২৭ কোটি ৩১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেবল পিলারের কাজটুকুই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রহস্যজনক কারণে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর কাজ থমকে থাকায় দুই তীরের বাসিন্দাদের আগের মতোই চরম দুর্ভোগ সয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। অথচ এই সেতুর আশায় বুক বেঁধে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট ভেঙে দিয়েছেন, অনেকে বসতবাড়ি কিংবা ফসলি জমিও ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর পার হলেও সেতুর সুফল না পাওয়ায় এবং জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না মেলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করার কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা। স্থানীয় বাসিন্দা আনিস মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “সেতু হলে এলাকার উন্নয়ন হবে ভেবে আমরা নিজ উদ্যোগে জমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন দেখি সেতুও হলো না, আবার জমিও গেল। আমরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।”

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের শুরুতে কিছু কারিগরি ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত পুনরায় কাজ শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, যথাযথ হাইড্রোলজি জরিপ ও নকশা মেনেই সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।