পৌষের তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটার আগেই ফসলের মাঠে নেমে পড়েন একদল সংগ্রামী নারী। মটর, খেসারি, বুট, লাউ কিংবা কুমড়ার ক্ষেত থেকে পরম মমতায় সংগ্রহ করেন টাটকা শাক। এরপর সেই সতেজ কৃষিপণ্য নিয়ে তারা ছোটেন রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায়। সেখানে ফুটপাতে পাটি বিছিয়ে গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী ‘শাকের বাজার’। মূলত নিজেদের শ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে এই নারীরা এখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খুঁজছেন।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই নারীদের কর্মযজ্ঞ। মাঠ থেকে তোলা শাকগুলো তারা কেবল বিক্রিই করেন না, বরং ক্রেতাদের সুবিধার্থে বটি দিয়ে কুচি কুচি করে রান্নার উপযোগী করে কেটে দেন। ঝামেলামুক্ত এবং সরাসরি মাঠ থেকে আসা টাটকা শাক পাওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের কাছেও এই বাজারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে প্রস্তুত করা এই শাক ক্রেতাদের সময় ও শ্রম দুই-ই সাশ্রয় করছে।
বাজার দর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে এখানে প্রতি কেজি ভাতি (বইট্টা) শাক ৬০ টাকা, খেসারি শাক ১০০ টাকা এবং বুটের শাক ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সরিষা, রাই, মেথি, মটর, সজিনা ও লাউ শাকসহ বিভিন্ন জাতের শাক পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে একেকজন নারীর ঘরে ফেরে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
এই উপার্জিত অর্থই এখন তাদের সংসারের মূল চালিকাশক্তি। ১২ থেকে ১৪ জন নারীর এই ক্ষুদ্র দলটির আয়েই চলছে সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ওষুধের খরচসহ দৈনন্দিন যাবতীয় ব্যয়। প্রতিকূল আবহাওয়া দমাতে পারেনি এই নারীদের। বরং হাড়কাঁপানো শীতকে জয় করে তারা হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের অবহেলিত স্তর থেকে উঠে আসা এই নারীদের লড়াকু জীবন এখন অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা।
রিপোর্টারের নাম 






















