গাজীপুরে কারখানার ছাদ থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে গিয়ে নিচে পড়ে টার্গেট ডেনিম অ্যান্ড ক্যাজুয়াল ওয়্যার পোশাক কারখানার নিরাপত্তা কর্মী জাহিদুল ইসলামের (৪৮) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ওসি হারুন-অর-রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিরাপত্তা কর্মী জাহিদুল ইসলাম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা গ্রামের আঞ্জব আলীর ছেলে। তিনি নাওজোর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ উদ্দিনের বাসায় ভাড়া থেকে ওই কারখানায় জুনিয়র নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহানগরীর বাসন থানাধীন নাওজোর এলাকার (ইসলামপুর রোড) টার্গেট ডেনিম অ্যান্ড ক্যাজুয়াল ওয়্যার পোশাক কারখানার ভেতরে দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহতের সহকর্মী জানান, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার সময় কারখানার দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে পতাকা নামানোর জন্য ছাদে ওঠেন জাহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে থাকা কংক্রিটের ওপর পড়ে গিয়ে মাথা এবং মুখে আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে পাশেই স্থানীয় রাহাতুন্নেসা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টার্গেট ডেনিম অ্যান্ড ক্যাজুয়াল ওয়্যার পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানার একজন নিরাপত্তা কর্মী জাহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক কারখানার পাশের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ করে কেন অসুস্থ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
কারখানার পরিচালক মিরাজুল ইসলাম দুপুর ১২ টায় সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) কারখানা বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি, আমি কারখানায় যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারবো।
বাসন থানার ওসি) হারুন-অর-রশিদ বলেন, কারখানার ছাদ থেকে পতাকা নামানোর সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে ছাদ থেকে নিচে পড়ে মাথায় ও মুখে আঘাত পায় নিরাপত্তা কর্মী জাহিদুল ইসলাম। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাশের সুরতহাল করেছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















