ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা ‘এলিট টাওয়ার’ নির্মাণের অভিযোগ ওঠার পর ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।
নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় দেখা যায়, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারের সীমানার মধ্যে পড়েছে। এই পরিমাপের পরপরই ভবনটির যাবতীয় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় কাজ চালু করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে যেকোনো বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে ভবনটিতে অভিযান চালানো হয়। এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, “রেলওয়ের জমিতে কোনো অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। সরকারি জমি রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। নিয়ম অমান্য করে কাজ চালু রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরীর মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন দাবি করেন, নিয়ম মেনেই নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল এবং এতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। আপাতত রেলওয়ের নির্দেশ মেনে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হলেও সম্প্রতি কাজ শুরু হয়। পুরো নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

























